তারিক মোহাম্মদ, ঝিকরগাছা (যশোর) : যশোর অঞ্চলের ১৬টি কটন ইউনিটে প্রণোদনার আওতায় থাকা প্রায় তিন হাজার তুলাচাষীর মধ্যে তাদের চাহিদার বাইরে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের তুলাবীজ বিতরণের অভিযোগ উঠেছে| কৃষকদের দাবি, তারা যে জাতের বীজ চেয়েছেন, তার পরিবর্তে কম অঙ্কুরোদ্গম ও কম ফলনশীল বলে পরিচিত অন্য ব্র্যান্ডের বীজ দেওয়া হচ্ছে| এতে চলতি মৌসুমে তুলা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা| তবে এসব অভিযোগ নাকচ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা|
সরেজমিনে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর অঞ্চলের মনিরামপুর, ঝাপা, যশোর সদর, খাজুরা, ঝিকরগাছা-১ ও ২, কেশবপুর, শার্শা, উলাসী, চৌগাছা, হাকিমপুর, পুড়োপাড়া, চুকনগর, বারোবাজার ও কালীগঞ্জ, এই ১৬টি কটন ইউনিটে এবার প্রায় তিন হাজার কৃষক প্রণোদনার আওতায় তুলা চাষ করবেন|
কৃষকদের অভিযোগ, তাদের অধিকাংশই সুপ্রিম সিড কোম্পানির হোয়াইট গোল্ড-১ ও হোয়াইট গোল্ড-২ জাতের বীজ চাইলেও ইস্পাহানি কোম্পানির লাল তীর ও বিএম-৪ ব্র্যান্ডের বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে| তাদের ভাষ্য, কয়েক বছর আগে লাল তীর ব্র্যান্ডের বীজ ব্যবহার করে আশানুরূপ ফলন পাননি| অন্যদিকে হোয়াইট গোল্ড জাতের বীজে ভালো উৎপাদন হয়েছে|
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক বলেন, প্রণোদনার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না| তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোম্পানির বীজ নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে|
চৌগাছা উপজেলার কৃষক মাসুদ হোসেন, হারুন, বাবলুর রহমান ও আব্দুর রহিম এবং ঝিকরগাছা উপজেলার শফিকুল ইসলাম, শিমুল হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, আসাদুজ্জামান ও জাহাঙ্গীর হোসেনও লাল তীর ব্র্যান্ডের বীজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন|
ঝিকরগাছা ইউনিট-১-এর কর্মকর্তা আসাদ হোসেন বলেন, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ীই লাল তীর ব্র্যান্ডের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে|
চৌগাছা ও হাকিমপুর ইউনিটের কর্মকর্তা আবু সাঈদ জানান, তাদের ইউনিটে ৫৩০ জন কৃষকের জন্য ৩৫০ কেজি বীজের চাহিদার বিপরীতে ১৪৩ কেজি লাল তীর ব্র্যান্ডের বীজ এসেছে| বাকি বীজ পরে সরবরাহ করা হবে| কৃষকদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোর করে বীজ বিতরণের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই| আমরা যে বীজ পাই, সেটিই বিতরণ করি|
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার যশোর অঞ্চলে তিন হাজার বিঘা জমিতে তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে| এতে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মণ বীজতুলা উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে| প্রণোদনার আওতায় প্রতিটি কৃষক ৬০০ গ্রাম তুলাবীজের পাশাপাশি সার ও কীটনাশক পান| বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর জোনের উপপরিচালক মোজাদ্দেল আল শামীমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি|
অভিযোগের বিষয়ে যশোর জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, কৃষকদের অভিযোগ সঠিক নয়| সরকার বিনা মূল্যে প্রণোদনার বীজ সরবরাহ করে| লাল তীর ও সুপ্রিম উভয় কোম্পানির বীজই মানসম্মত| সরকারি নীতিমালা অনুসারেই বীজ সংগ্রহ ও বিতরণ করা হয়| কোনো কোম্পানির বীজ সরবরাহে সমস্যা হলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়| কৃষকের স্বার্থই গুরুত্ব পায়|
তবে কৃষকদের দাবি, বিতরণ করা বীজের গুণগত মান এবং সরবরাহ প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে এবং ভবিষ্যতে কৃষকরা আরও আস্থার সঙ্গে তুলা চাষে আগ্রহী হবেন|