/ রামপালে আবাসন প্রকল্পের দুই শতাধিক ঘর ফাঁকা

রামপালে আবাসন প্রকল্পের দুই শতাধিক ঘর ফাঁকা

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফয়লাহাট (রামপাল) : ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত সরকারি আবাসন প্রকল্পের দুই শতাধিক ঘর বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে খালি। কোথাও সংস্কারের অভাবে ঘর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, আবার কোথাও ঘর বরাদ্দ পাওয়ার পরই তা তালাবদ্ধ করে চলে গেছেন সুবিধাভোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ গোপনে নিষিদ্ধ ঘর বিক্রি কিংবা স্ট্যাম্পে চুক্তি করে অন্যের কাছে হস্তান্তরও করেছেন। অথচ আবাসনহীন বহু পরিবার এখনও রাস্তাঘাটের পাশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে।
রামপাল উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২০টি সরকারি আবাসন প্রকল্প রয়েছে। উজলকুড় ইউনিয়নের ফয়লাহাট পার-গোবিন্দপুর, রামপাল সদর ইউনিয়নের শ্রীফলতলা ও চিত্রা-কাষ্টবাড়িয়া, পেড়িখালি ইউনিয়নের সিকিরডাঙ্গা, গৌরম্ভা ইউনিয়নের উত্তর গৌরম্ভা এবং বাঁশতলী ইউনিয়নের মুজিবনগর এলাকায় ২০১০ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে এসব আবাসন নির্মাণ করা হয়।
পরে যাচাই-বাছাই করে প্রতিটি আবাসনে ৮০টি করে ভূমিহীন পরিবার পুনর্বাসন করা হয়। কোনো কোনো আবাসনে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আধাপাকা, আবার কোথাও টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর দীর্ঘদিন এসব ঘরে তেমন সংস্কার হয়নি। লবণাক্ত আবহাওয়ার কারণে টিন ও অন্যান্য অবকাঠামো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। ২০১৯-২০ সালের দিকে অনেক আবাসনের ঘর জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারের অভাবে বসবাস করতে না পেরে বিভিন্ন আবাসন থেকে অনেক পরিবার ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। আবার কেউ কেউ কয়েক মাস থাকার পর স্ট্যাম্পে চুক্তি করে টাকা নিয়ে অন্যের কাছে ঘর হস্তান্তর করেছেন। নতুন-পুরোনো মিলিয়ে বর্তমানে দুই শতাধিক ঘর খালি পড়ে রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকৃত ভূমিহীন নন এমন কিছু পরিবারও ঘর পেয়েছে। তাঁরা মাঝেমধ্যে আবাসনে এলেও বছরের অধিকাংশ সময় ঘর তালাবদ্ধ থাকে।
এ ছাড়া উত্তর গৌরম্ভা, শ্রীফলতলা, পেড়িখালি, বড়দিয়া ও কৈগর্দাসকাঠি এলাকায় পরবর্তী সময়ে নির্মিত আবাসন প্রকল্পেও একই চিত্র দেখা গেছে। কেউ ঘর ও জমির দলিল পাওয়ার পর একদিনও থাকেননি। কেউ কয়েক দিন থাকার পর ঘরে তালা ঝুলিয়ে চলে গেছেন। আবার কেউ গোপনে টাকা নিয়ে অন্যকে ঘরে তুলে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বছরের পর বছর ঘরগুলো খালি পড়ে থাকলেও সংস্কার করে নতুন ভূমিহীন পরিবার পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ বহু ভূমিহীন পরিবার জায়গার অভাবে খুলনা-মোংলা মহাসড়ক, খুলনা-মোংলা রেললাইন ও বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কের পাশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘর পাওয়ার পর যারা সেখানে বসবাস করছেন না, তাঁদের তালিকা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, তাঁদের নামে থাকা দলিল এখনো সরকার বাতিল করেনি। কাগজে-কলমে তাঁরা ওই ঘরের মালিক। সরকার দলিল বাতিল করলে তাঁদের ঘর ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হবে।