শেখ আহমেদ তারিক, বাগেরহাটঃ বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ভাসমান সবজি হাটে সপ্তাহে দুই দিন জমে ওঠে কেনাবেচার জমজমাট আসর। মাত্র চার ঘণ্টায় এ হাটে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার সবজি বিক্রি হয়। পুরো মৌসুমে প্রায় চার কোটি টাকার সবজি কেনাবেচা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতি সপ্তাহের রোববার ও বুধবার সকাল থেকে গজালিয়া খালের ওপর বসে এ ভাসমান হাট। সকাল ৭টা থেকেই আশপাশের গ্রামের কৃষকেরা নৌকা, ভ্যান ও বিভিন্ন যানবাহনে করে নিজেদের উৎপাদিত শসা, করলা, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, ঝিঙে, বরবটিসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি নিয়ে হাটে আসেন। খালের ওপর নৌকায় নৌকায় সাজানো হয় টাটকা সবজি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ীরাও নৌকা ও ট্রলার নিয়ে এ হাটে ভিড় করেন।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, উৎপাদিত সবজি সরাসরি পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে পারায় পরিবহন খরচ ও মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য তুলনামূলক কম। ফলে তাঁরা ভালো দাম পাওয়ার পাশাপাশি দ্রুত সবজি বিক্রি করতে পারেন।
স্থানীয় কৃষক আবুল কালাম বলেন, গজালিয়ার ভাসমান হাটে তিনি নিয়মিত সবজি বিক্রি করেন। এখানে পাইকারেরা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সবজি কিনে নেওয়ায় সময় ও পরিবহন খরচ কম লাগে। ফলে অন্য বাজারের তুলনায় এখানে সবজি বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া যায়।
পিরোজপুরের নাজিরপুর থেকে হাটে সবজি কিনতে আসা মোনেম মিয়া বলেন, এখানে একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের তাজা সবজি পাওয়া যায়। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে আসায় সবজির মান ভালো এবং তুলনামূলক কম দামেও কেনা যায়।
তবে সম্ভাবনাময় এ হাটে রয়েছে অবকাঠামোগত কিছু সমস্যা। বিশেষ করে ভাঙাচোরা সড়ক, পর্যাপ্ত ঘাট না থাকা এবং যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। হাটটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা গেলে কেনাবেচা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, গজালিয়ার ভাসমান সবজি হাটটি স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত সবজি বিপণনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ হাটের মাধ্যমে কৃষকেরা সরাসরি পাইকারদের কাছে পণ্য বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। হাটটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা গেলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।