দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কবরস্থানে দাফন করা আলোচিত ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীরের লাশ কবর থেকে তুলে দরবার বা আস্তানায় দাফন করার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। নিহত পীরের ভাই ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে শনিবার রাতে দৌলতপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তবে এ ঘটনায় কেউ আটক বা গ্রেপ্তার হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ভূত পরিস্থিতি বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দরবার ও কবরস্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরবর্তীতে আবারো পীরের ভক্তরা কবর থেকে ‘পীর’ শামীমের লাশ উত্তোলন করতে না পারে এমন আশঙ্কায় পীরের কবরটি গতকাল রোববার স্থায়ীভাবে পাকা করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর (পাঁচশত বিঘা) কবরস্থানে দাফন করা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের লাশ তুলে তাঁর ভক্তরা একই এলাকায় অবস্থিত পীরের দরবার বা আস্তানায় দাফন করে। শনিবার সকালে ঘটনাটি জানতে পেরে পরিবারের লোকজন পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান ও দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাসের নেতৃত্বে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরবারের ভেতর পীরের দাফনকরা লাশ তুুলে শনিবার বিকেলে পুনরায় কবরস্থানে নিয়ে পীরের নিজ কবরে পুন:স্থাপন করেন।
এবিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, রাতের আঁধারে কারা কবর খুঁড়ে পীরের লাশ সরিয়েয়েছে, তা শনাক্তে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। এ ঘটনায় নিহত পীর শামীমের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পীরের কবরস্থান ও আস্তানায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, পীরের দেহাবশেষ নিজ কবরে পুন:স্থাপনের পর অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কবরস্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কারা কবর খুঁড়ে পীরের দেহাবশেষ সরিয়ে নিয়েছিল, তা শনাক্তে তদন্ত চলছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কবরটি স্থায়ীভাবে পাকা করা হয়েছে।