/ নগরীতে খুঁড়ে রাখা দুই শতাধিক সড়ক মেরামত হচ্ছে না, ভোগান্তি নগরবাসীর

নগরীতে খুঁড়ে রাখা দুই শতাধিক সড়ক মেরামত হচ্ছে না, ভোগান্তি নগরবাসীর

স্টাফ রিপোর্টার : ওয়াসার কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কেসিসির মালিকানাধীন সড়ক খুঁড়ে মেরামতের জন্য দুই বছর আগেই ১১২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। কেন কেসিসি সড়কগুলো সংস্কার করছে না-এটা তারাই বলতে পারবে।
অন্যদিকে কেসিসি বলছে, ছোট-বড় প্রায় ৬৫টি সড়ক মেরামতের জন্য গত জুলাই মাসে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ৩২টি প্যাকেজের লটারি সম্পন্ন হয়েছে। চলতি মাসের শেষে এবং আগামী মাসের শুরুতেই এসব সড়কের কাজ শুরু হবে।


ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে খুলনা শহরের গৃহস্থালি, মানুষের ও শিল্প বর্জ্য নিষ্কাশন হয় উন্মুক্ত পরিবেশে। মহানগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা আধুনিকায়নের জন্য দুই হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বড় প্রকল্পের কাজ শুরু করে ওয়াসা। প্রকল্পের আওতায় নগরীর ১৫ থেকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ২৭ হাজার বাড়ির পয়ঃবর্জ্য সংগ্রহ করে শোধনাগারে নেওয়া হবে। এ জন্য নগরীর ভেতরে ২৫৫ কিলোমিটার পাইপলাইন, প্রায় ১২ হাজার ৪৯০টি ম্যানহোল, ২৭ হাজার গৃহসংযোগ, দুটি শোধনাগার এবং আটটি পাম্প স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। পাইপ স্থাপন এবং ম্যানহোল স্থাপনের জন্য ৫০ থেকে ১০০ মিটার পরপর সড়কের কিছু অংশ খুঁড়তে হচ্ছে। কিছু ছোট সড়ক সম্পূর্ণ খুঁড়ে পাইপ বসানো হচ্ছে।

ছোট-বড় ৬৫টি সড়ক সংস্কারের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে কেসিসি, দ্রুত কাজ শুরুর দাবি


প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, ইতোমধ্যে ২১৫ কিলোমিটার পাইপ স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। সাড়ে ১০ হাজারের মতো ম্যানহোল স্থাপন করা হয়েছে। নগরীর প্রধান কিছু সড়ক বাদে অধিকাংশ এলাকায় পাইপ স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। সড়ক খুঁড়ে পাইপ স্থাপনের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে কেসিসিকে ১১২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এই টাকা দিয়ে সব সড়ক মেরামত করা কথা ছিল। কিন্তু কেসিসি মোট ৬৪১ কোটি চায়, সেখান থেকে শুরু হয় জটিলতা।
নগরীর শেখপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার বাসিন্দা আমির সোহেল বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে সড়কের মাঝে ম্যানহোল ও পাইপ বসানো হয়। বলেছিল, দুই মাসের মধ্যে সংস্কার করবে। আশপাশের সড়ক সংস্কার হলেও আমাদের গলি প্রায় দেড় বছর ধরে বেহাল। মোটরসাইকেল অন্যের বাড়ি রেখে এর পর বাড়িতে ঢুকতে হচ্ছে।


২৮ নম্বর ওয়ার্ডের মিয়াপাড়া দ্বিতীয় গলির বাসিন্দা আকবর হোসেন বলেন, সাইকেল-রিকশা দূরের কথা, সড়কে হাঁটার মতোও অবস্থা নেই। ছয় মাসেরও বেশি হয়েছে, ঠিক হচ্ছে না। বৃষ্টিতে, কাদাপানিতে নাকাল হতে হচ্ছে। নগরীর ১৭, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন এ ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ওয়াসা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ফিরোজ শাহ বলেন, খুঁড়ে রাখা সড়ক মেরামতের জন্য কেসিসিকে ১১২ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। সড়কগুলো যাতে দ্রুত মেরামত করা হয়, এজন্য তাদের সঙ্গে কথা চলছে।