রিপন হোসেন সাজু, নেহালপুর (মনিরামপুর) : নির্বাচনের ৭ মাস পরও সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও সংস্কারের অর্থ পায়নি যশোরের মণিরামপুরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধীন ২০টি ভোট কেন্দ্র। গেলো ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বরাদ্দ প্রদানের আগেই ৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্র সংস্কার ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনে কড়া বার্তা দেয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিস। পরবর্তিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধীন ৬৪টি ভোট কেন্দ্রের বিপরীতে প্রায় ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ পেলেও বাকীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকার ধর্ণা দিলেও আজও বরাদ্দ পাননি। বাকীতে কেনাকাটা করা এই ব্যয়ভার পরিশোধে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন তারা।
জানাযায়, এই সংসদীয় আসনে ১শ’২৮টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে সিংহভাগ ভোট কেন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধীন। নির্বাচন ত্রুটিমুক্ত ও ঝুঁকি এড়াতে ৮৫টি ভোট কেন্দ্র চিহ্নিত করে বরাদ্দ পাওয়ার আগেই জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এসব ভোট কেন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধীন। নির্দেশ মোতাবেক বাকীতে সরঞ্জামাদি কিনে এসব ভোট কেন্দ্র সংস্কার ও আইপিসহ ৫ থেকে ৮টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেন বিদ্যালয়ের প্রধানগণ। কিন্তু বরাদ্দ পায় মাত্র ৬৪ টি ভোট কেন্দ্র। বাকীরা লিখিত ও মৌখিকভাবে একাধিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ধর্ণা দিয়েও বরাদ্দ পাননি। এতে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন তারা। বরাদ্দ না পাওয়া উপজেলার বাকোশপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার কুন্ডু ক্ষুব্ধ কন্ঠে জানান, তিনি বাকীতে মালামাল কিনে প্রায় ২৫ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। কিন্তু বরাদ্দ না পেয়ে এখন লজ্জায় পড়তে হচ্ছে। চাপাকোণা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রুহুল কুদ্দুস জানান, আগে বছরে স্লিপসহ সংস্কারের জন্য বরাদ্দ আসতো। কিন্তু সেটাও একেবারেই কমে এসেছে। আগের মতো বরাদ্দ পেলেও সমন্বয় করে নেওয়া সম্ভব হতো। উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শামছুল আলম বলেন, উর্দ্ধৃতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে বরাদ্দের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। ইউএনও মোঃ সম্রাট হোসেন বলেন, এ নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদি।