স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে গত ১৫ মার্চ থেকে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৬১১। ডেঙ্গুতে চলতি বছর এ পর্যন্ত ৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সন্দেহজনক হামে মারা গেছেন ৫৮ জন। দুই রোগে সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১৩৭। বর্তমানে শুধু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১ হাজার ১৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ের গতকাল শনিবারের পৃথক দুটি প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত চলতি বছরে খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২০ হাজার ৮৮৪ জন। সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫৭ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১ হাজার ১৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৫২ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৩৮ জন। এ সময়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯।
জেলাভিত্তিক হিসাবে খুলনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। এ জেলায় চলতি বছরে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ২০ জন। মারা গেছেন ৩০ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৩২ জন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৬৬০ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৩৬ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১৫১ জন।
বাগেরহাটে মোট আক্রান্ত ২ হাজার ৫৯৬ জন, মৃত্যু ছয়জন এবং চিকিৎসাধীন ১৫৩ জন। যশোরে আক্রান্ত ২ হাজার ১২৬ জন, মৃত্যু দুজন এবং চিকিৎসাধীন ১২৩ জন। সাতক্ষীরায় আক্রান্ত ৬৯৬ জন, মৃত্যু একজন এবং চিকিৎসাধীন ২৯ জন। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আক্রান্ত ৪৪৯ জন এবং চিকিৎসাধীন ২১ জন।
এ ছাড়া ঝিনাইদহে ৬৬৮ জন আক্রান্ত ও ৫০ জন চিকিৎসাধীন, মাগুরায় ৪৮৯ জন আক্রান্ত ও ৪৭ জন চিকিৎসাধীন, নড়াইলে ৭৪৭ জন আক্রান্ত ও ১৭ জন চিকিৎসাধীন, কুষ্টিয়ায় ৬৮৮ জন আক্রান্ত ও ৪৭ জন চিকিৎসাধীন, চুয়াডাঙ্গায় ২৩৯ জন আক্রান্ত ও ১৩ জন চিকিৎসাধীন এবং মেহেরপুরে ৫০৬ জন আক্রান্ত ও ৩১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে খুলনা বিভাগে ১৫ হাজার ৬১১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ হাজার ১৭৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ১৪ হাজার ৬২৩ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। সন্দেহজনক হামে এ পর্যন্ত ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৪৯৬ জন। নিশ্চিত হামে মৃত্যুর কোনো তথ্য নেই।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বাগেরহাটে ১৬, খুলনায় ২৪, কুষ্টিয়ায় ১৩, মাগুরায় ১২ এবং মেহেরপুরে দুজন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৭ জন। এ সময়ে সন্দেহজনক বা নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
জেলাভিত্তিক হিসাবে সন্দেহজনক হাম রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি খুলনায়। এ জেলায় ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৯৩৭ জন সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ৮৫৮ জন। মারা গেছেন ৩১ জন। নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৫৯ জন।
কুষ্টিয়ায় ৩ হাজার ৫০১ জন সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৭৯ জন। সন্দেহজনক হামে মারা গেছেন ২০ জন। নিশ্চিত হাম রোগী ২৩ জন। ঝিনাইদহে সন্দেহজনক রোগী ১ হাজার ২৪৬ জন, মৃত্যু পাঁচজন এবং নিশ্চিত হাম রোগী ১৭ জন।
বাগেরহাটে সন্দেহজনক রোগী ১ হাজার ১৯২ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগী ৭৪ জন। যশোরে সন্দেহজনক রোগী ৯৭৬ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগী ৫৮ জন। মাগুরায় সন্দেহজনক রোগী ২ হাজার ৩৮০ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগী ১২৮ জন। নড়াইলে সন্দেহজনক রোগী ১ হাজার ১৪৯ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগী ৮৫ জন। চুয়াডাঙ্গায় সন্দেহজনক রোগী ৭৭৮ জন, সন্দেহজনক হামে মৃত্যু একজন। মেহেরপুরে সন্দেহজনক রোগী ৮৯২ জন, মৃত্যু একজন এবং নিশ্চিত হাম রোগী ১০ জন। সাতক্ষীরায় সন্দেহজনক রোগী ৫৬০ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগী ৪২ জন।
সব মিলিয়ে খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু ও হাম—দুই রোগেই স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে। ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ৭৯ এবং সন্দেহজনক হামে ৫৮।