লেখা: এম এম মাসুম বিল্যাহ
মানুষ যখন আগুন আবিষ্কার করেছিল, সেই আগুনে রান্না করেছে, আবার সেই আগুনেই মানুষের ঘর পুড়েছে। যখন পারমাণবিক শক্তি আবিষ্কার করেছে, তা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে, আবার সেই শক্তিই ধ্বংসের অস্ত্র হয়েছে।
এখন চিকিৎসায় রোগের সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করতে, নতুন ওষুধ আবিষ্কার আরও দ্রুত করতে, দুর্যোগের পূর্বাভাস দিতে, কৃষিতে ফসলের রোগ- মাটির অবস্থা খতিয়ে দেখতে, বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিপুল তথ্য অল্প সময়ে বিশ্লেষণ করতে, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের নৈমেত্বিক জীবনকে আরও স্বাভাবিক করে তুলতে, এমন অভাবনীয় সব কাজে AI ভূমিকা রাখছে।
তবে মানুষের ইতিহাসে প্রতিটি বড় উদ্ভাবনই একদিকে সম্ভাবনার দরজা খুলেছে, অন্যদিকে নতুন ঝুঁকির জন্ম দিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ক্ষেত্রেও বাস্তবতা খুব একটা ভিন্ন নয়।
যখন AI দিয়ে একটি মিথ্যা ভিডিওকে সত্য বলে বিশ্বাস করানো যায়, কারও কণ্ঠস্বর নকল করে প্রতারণা করা যায় কিংবা মানুষের তৈরি সৃজনশীলতার বিকল্প হিসেবে যন্ত্রকে দাঁড় করানো যায়, তখন আমাদের ভাবতে হয়, আমরা কি প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছি নাকি ধীরে ধীরে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা AI এর হাতে তুলে দিচ্ছি?
AI হয়তো অদূর ভবিষ্যতে মানুষের চেয়ে দ্রুত চিন্তা করতে পারবে, বেশি তথ্য সংরক্ষণ করতে পারবে, এমনকি অনেক কাজে মানুষের চেয়েও ভালো সিদ্ধান্ত দিতে পারবে। কিন্তু কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, এটা শুধু বুদ্ধিমত্তা দিয়ে হয় না; সেখানে নৈতিকতা, বিবেক, সহমর্মিতা এবং মানবিকতার প্রয়োজন।
AI এর সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হলো এটি মানুষের হাতকে শক্তিশালী করবে। আর সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো এটি মানুষের মস্তিষ্ককে অলস করে দিতে পারে। যে মানুষ নিজে চিন্তা না করে AI জবাবকে সঠিক ধরে নেয়, সে প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়- সে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। যেদিন AI মানুষের কাজ করতে শিখবে, সেদিনের চ্যালেঞ্জ হবে চাকরি হারানো; কিন্তু যেদিন AI মানুষের হয়ে চিন্তা করতে শুরু করবে, সেদিনের চ্যালেঞ্জ হবে আমাদের স্বাধীন চিন্তার ক্ষমতা হারানো।
তাই AI এর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। প্রযুক্তিকে থামানো নয় বরং তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের নৈতিকতা, বিচারবোধ ও দায়িত্বশীলতাকেও এগিয়ে নিতে হবে। কারণ ভবিষ্যতে AI কেমন হবে সেটি AI ঠিক করবে না, ঠিক করবে সেই মানুষ যে AI-কে কীভাবে ব্যবহার করতে জানে।