/ ওয়াসার খুঁড়ে রাখা গলিগুলো মেরামত হচ্ছে না, দুর্ভোগ বাড়ছে মানুষের

ওয়াসার খুঁড়ে রাখা গলিগুলো মেরামত হচ্ছে না, দুর্ভোগ বাড়ছে মানুষের

৬/৭ ফুট প্রশস্ততার গলি সিসি ঢালাই দিয়ে মেরামতে সর্বোচ্চ ব্যয় হবে ১২ কোটি টাকা, সময় লাগবে মাত্র এক মাস

কেসিসির অ্যাকাউন্টে টাকা দিয়ে রেখেছে ওয়াসা

কিন্তু কারা কাজ করবে সেই সিদ্ধান্তে আটকে আছে সব

স্টাফ রিপোর্টার : পয়ঃনিষ্কাশন পাইপ স্থাপন, ম্যানহোল ˆতরি এবং গৃহসংযোগ পিটের জন্য নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের ছোট সড়ক ও গলি খুঁড়েছে ওয়াসা| এর মধ্যে প্রায় দুই শতাধিক ছোট সড়ক বা গলি এখনও মেরামত করা হয়নি| এতে দুর্ভোগে পড়েছে নগরীর মানুষ| ওয়াসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নগরীর ৩০, ৩১ ও ১৭নং ওয়ার্ডে প্রায় দুই শতাধিক গলি সিসি ঢালাই দিতে সর্বোচ্চ ১২ কোটি টাকা ব্যয় হবে| সবাই আন্তরিক হলে এক মাসের মধ্যেই সবগুলো গলি মেরামত করা সম্ভব| সংস্থাটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বড় সড়ক মেরামতের পর কেসিসির কাছে এখনও ১৪ কোটি টাকা রয়েছে| বড় ঠিকাদারদের দিয়ে কেসিসি দ্রুত এসব গলি মেরামত করতে পারে| তারা করতে না চাইলে টাকা ফেরত দিলে, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক মাসের মধ্যেই সব গলি মেরামত করবে| কিন্তু কারা, কিভাবে করবে-সেই সিদ্ধান্ত নিতেই সময় লাগছে|


নগরীর শেখপাড়া স্টাফ কোয়াটার এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক আমির সোহেল জানান, প্রায় দেড় বছর আগে সড়কের মাঝে ম্যানহোল ও পাইপ বসানো হয়| বলেছিল দুই মাসের মধ্যে সংস্কার করতে| আশপাশের সড়ক সংস্কার হলেও আমাদের গলি প্রায় দেড় বছর ধরে বেহাল| মটর সাইকেল অন্যের বাড়ি রেখে এরপর বাড়িতে ঢুকতে হচ্ছে| নগরীর ২৮নং ওয়ার্ডের মিয়াপাড়া দ্বিতীয় গলির বাসিন্দা আকবর হোসেন বলেন, সাইকেল-রিকসা তো দূরের কথা, সড়কে হাটার মতোও অবস্থা নেই| ৬ মাসেরও বেশি সময় হয়েছে, ঠিক হচ্ছে না| বৃষ্টিতে কাদাপানিতে নাকাল হতে হচ্ছে|


নগরীর ১৭, ৩০ ও ৩১নং ওয়ার্ডের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন এ ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন| এ ব্যাপারে কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, ম্যানহোল বসানোর জন্য ২০ ফুট গর্ত খুড়লে সড়কের আশপাশের অংশও সেই গর্তে ধসে পড়ে| কোথাও সড়কের বড় অংশ দেবে যায়| তখন সড়ক পুরোটাই মেরামত করতে হয়| এজন্য খরচ হয় বেশি| এসব বিবেচনায় ওয়াসার কাছে অতিরিক্ত অর্থ চাওয়া হয়েছিল| এখন ওয়াসাই তাদের সড়ক মেরামত করবে বরে সিদ্ধান্ত হয়েছে|


খুলনা ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক খান সেলিম আহমেদ বলেন, অর্ধসমাপ্ত ১৯৫টি ছোট সড়ক শুধু কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে এক মাসের মধ্যে চলাচল উপযোগী করা সম্ভব| এতে সর্বোচ্চ ১২/১৩ কোটি টাকা খরচ হতে পারে| কেসিসির কাছে আমাদের এখনও ১৪ কোটি টাকা রয়েছে| তারা ইচ্ছে করলে সেই টাকা দিয়ে সবগুলি মেরামত করতে পারে| না হলে টাকা ফেরত দিলে আমরা দ্রুত মেরামত দিক| বিষয়টি নিয়ে কেসিসির সঙ্গে একাধিক ˆবঠক হয়েছে| দ্রুত সমাধান হবে|


কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সড়কগুলো নিয়ে মানুষের কষ্ট হচ্ছে| ওয়াসাকে দ্রুত সড়কগুলো মেরামত করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে|