/ বেত্রবতী নদীতে সাঁকো ভাঙার এক মাসেও কাটেনি নদী পারাপারের দুর্ভোগ

বেত্রবতী নদীতে সাঁকো ভাঙার এক মাসেও কাটেনি নদী পারাপারের দুর্ভোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : কাঁচাবাজারসংলগ্ন বেত্রবতী নদীর কাঠের সাঁকো পানির তীব্র স্রোতে ভেসে যাওয়ার প্রায় এক মাস হতে চললেও এখনো স্থায়ী সেতু নির্মাণ কিংবা নিরাপদ বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা হয়নি। ফলে বর্ষায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পার হচ্ছেন দুই পাড়ের বাসিন্দারা।


গত ১২ জুলাই পানির প্রবল স্রোতে বেত্রবতী নদীর কাঠের সাঁকোটি ভেসে যায়। এরপর থেকে সাঁকোটির পরিবর্তে নৌকাই হয়ে উঠেছে নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা। শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কর্মজীবী, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন।


কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত হোসেন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ পারাপারের স্থানে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা এলেই কাঠের সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। গত বছরও কয়েক দফা সাঁকোটি সংস্কার করা হয়েছিল। চলতি বছর ভেঙে যাওয়ার কয়েক দিন আগেও সংস্কার করা হয়। কিন্তু পানির স্রোতে সেটিও টেকেনি।


স্থানীয়রা জানান, নদীর পশ্চিম প্রান্তে কোনো সড়কবাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর দুর্ভোগ আরও বাড়ে। অন্ধকারের মধ্যে নৌকায় নদী পার হতে গিয়ে নারী, শিশু, বয়স্ক ও রোগীদের বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। রাতে জরুরি প্রয়োজনে নদী পারাপারে আতঙ্কে থাকতে হয় তাঁদের।
বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মীর রফিকুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সাঁকো এলাকা পরিদর্শন করে টেন্ডারের মাধ্যমে স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের কথা জানিয়েছেন। এর আগে মানুষের চলাচলের সুবিধায় বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে এখনো কোনো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।


ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম, মাহবুবুল আলমসহ স্থানীয়রা জানান, পরিদর্শনের পর দ্রুত কাজ শুরুর প্রত্যাশা তৈরি হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে দুর্ভোগও কাটছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আরিফুল ইসলাম বলেন, ওই স্থানে স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে কলারোয়া তরকারি বাজারে দ্বিতল স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর আগে মানুষের চলাচলের জন্য শিগগিরই নদীর ওপর একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়া হবে।


এলাকাবাসীর দাবি, স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে নদীর পশ্চিম প্রান্তে সড়কবাতি স্থাপন করে সন্ধ্যা ও রাতে নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।