নিজস্ব সংবাদদাতা,ফয়লাহাট (রামপাল) বাগেরহাট॥রামপাল উপজেলার একটি ইউনিয়নে পাঁচটি গ্রামীন সড়ক সংস্কারের অভাবে এবারের বর্ষা মৌসুমে বেহাল দশা হয়েছে। সাধারন মানুষ যানবাহন নিয়ে চলাচলে ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিব ব্যক্তিত্ব ও জন প্রতিনিধিদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে উপজেলার উজলকুড় ইউনিয়নের অন্তর্গত খুলনা- মোংলা মহাসড়কের ফয়লাহাট জনতাব্যাংকের মোড় থেকে বাবুরহাট পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে ছোট- বড়খানা খন্দকে ভরে গেছে। খানা খন্দকের উপর দিয়ে সাধারন মানুষ যানবাহন নিয়ে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।এ সড়ক দিয়ে স্থানীয় ভাবে অন্তত ৬-৭ টি গ্রামের মানুষ চলাচল করে।এছাড়া এ সড়ক দিয়ে ফকিরহাট উপজেলার দেয়াপাড়া, শুভদিয়া ও রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা বাজারে যাতায়াত করা য়ায়।
ফয়লাহাট বাজার তাত খাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের পোল্ডার থেকে খুলনা- মোংলা মহাসড়কের রনশেন বাসস্ট্যান্ড মোড় পযন্ত মাত্র এক কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ বিগত ২০২২ সালে শুরু হলেও এখনও শেষ হয়নি। মেসার্স আমিরুল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওই সড়কের উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব পায়। পরে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় ঠিকাদার মাহাবুুবুর রহমানের কাছ থেকে মুনাফা নিয়ে তার কাছে কাজ হস্থান্তর করেন।
তিনি কাজের শুরুতেই সড়কের পুরাতন কার্পেটিং উঠিয়ে ইটের খোয়া ফেলে রোলার চেপে দিয়ে চার বছর লাপাত্তা রয়েছে। ইটের খোয়ার উপর দিয়ে যানবাহন নিয়ে চলাচল করায় বেশির ভাগ স্থানের খোয়া উঠে খানা খন্দকে পরিনত হয়েছে। এখন এক পশলা বৃষ্টি হলে খানা খন্দকে পানি জমে যায়। এমন অবস্থায় সাধারন মানুষ যানবাহন নিয়ে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়েছে। এ সড়ক দিয়ে অন্তত ১৫ টি গ্রামের সাধারন মানুষ চলাচল করে।
খুলনা- মোংলা মহাসড়কের রনশেনবাস স্ট্যান্ড মোড় থেকে গৌরম্ভা বাজার পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কারের অভাবে কার্পেটিং উঠে বিভিন্ন স্থানেখানা খন্দক হয়েছে। এ সড়ক দিয়ে অন্তত ১০ টি গ্রামের মানুষ যানবাহন নিয়ে চলাচল করে। সড়কের রনশেন এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যানবাহন গুলো খানা খন্দকের উপর দিয়ে হেলে দুলে চলাচল করছে। গৌরম্ভা ইউনিয়নের বেশির ভাগমানুষ এ সড়ক দিয়ে জেলা উপজেলা সহ বিভিন্ন স্থানে চলাচল করেন। অনেকে বলেন বিকল্প সড়ক না থাকায় তারা এ সড়কে চলাচল করছে।
ফয়লাহাট-বাবুরহাট সড়কের চাঁদপুর কাজি বাড়ির মোড় থেকে শংকর নগর পর্যন্ততিন কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা হয়েছে। এ সড়কটির বেশিরভাগ স্থানের ইটের সোলিং উঠে অসংখ্য খানা কন্দকে পরিনত হয়েছে। স্থানীয় লোকজন বলেন যান বাহন নিয়ে এক বার ঢুকলে দুর্ভোগের সীমা থাকে না। রাত হলে পায়ে হেটে চলাচল করা করা কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ে। আশে পাশের অন্তত ৪-৫ টি গ্রামের মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন।
ফয়লাহাট জনতা ব্যাংকের মোড় থেকে সন্তোষপুর-মানিকনগর সড়কের খেইগঞ্জ সেতু পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা হয়েছে। অন্তত ৩-৪ টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে ফয়লাহাটসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। ইটের সোলিং উঠে সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানা খন্দক হয়েছে। বৃষ্টি হলে চলা চলে দুর্ভোগে পড়ে মানুষ। স্থানীয় লোকজন এ সড়কে যানবাহন নিয়ে চলাচলে ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে রামপাল উপজেলা উপ-সহকারি প্রকৌশলী উজ্জল বাবু বলেন এখন বর্ষা মৌসুমে সংস্কার করলে তা টেকসই হবে না। এখন বর্ষা মৌসুমে সংস্কার করলে কেবল সরকারি অর্থের অপচয় হবে। সমীক্ষা করে শুষ্ক মৌসুমে এসব গ্রামীন সড়ক সংস্কারের উদ্যেগ নেয়াহবে। তবে রনশেন- ফয়লাহাট সড়কের কাজের জন্য পুন. দরপত্র আহবান করা হবে।
স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোড়ল লূৎফর রহমান বলেন সময় মতো সংস্কারে হাত না দেয়ায় এলাকার বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশা হয়েছে। আমার স্থানীয় সাংসদ প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড, শেখ ফরিদুল ইসলামের কাছে আবেদন করবো তিনি যাতে এসব গ্রামীণ সড়কের সংস্কারে হাত দেন।