/ উপকূলীয় মোরেলগঞ্জে আজও হয়নি টেকসই বেড়িবাঁধ

উপকূলীয় মোরেলগঞ্জে আজও হয়নি টেকসই বেড়িবাঁধ

সিডরের প্রাণহারা স্মৃতি আজও কাঁদিয়ে বেড়ায় স্বজনদের

এম. পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ: ১৮ বছর আগে এ দিনে (১৫ নভেম্বর) উপকূলে ভয়াল আঘাত হানে সুপার সাইক্লোন সিডর। সেই দিনের প্রলংকারি সিডরে উপকূলীয় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের ৯৩ জন মানুষের প্রাণহানী ঘটে। ক্ষত বিক্ষত করে এ যোগাযোগ ব্যবস্থা রাস্তাঘাট। স্বজন হারা পরিবারকে আজও কাঁদিয়ে বেড়ায় দু:সময়ের স্মৃতি। সিডরের ১৮ বছরেও হয়নি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি কাঙ্খিত বেড়িবাঁধ।

সরেজমিনে জানাগেছে, নদীর তীরবর্তী একদিকে বঙ্গোপসাগর অন্যদিকে সুন্দরবন ঘেষা উপকূলীয় মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা প্রায় ৪ লাখ মানুষের বসবাস। কৃষি নির্ভরশীল এ জনদের মানুষের প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে সংগ্রাম করে বেঁেত থাকতে হয়। প্রতি বছরই অতিরিক্ত জলোচ্ছ্বাস ও বণ্যায় নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে শত শত বিঘা ফসলি জমি।

অপরদিকে লবণাক্ততার কারনে একাধিক ফসল উৎপাদনে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সুপার সাইক্লোন সিডরের আঘাতে লন্ড ভন্ড হয়ে যায় মানুষের জীবনযাত্রা। পানগুছি নদীর তীরবর্তী বহরবুনিয়া, বারইখালী, মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের গাবতলা, শ্রেনীখালীসহ ২৫টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ প্রতি নিয়ত নদী ভাঙ্গনের কবলে। যে কারনে তাদের জীবনযাত্রার মান ব্যাহত হচ্ছে।

সিডরে সন্তানহারা বলইবুনিয়া ইউনিয়নের দোনা গ্রামের মা ইউপি সদস্য রাজিয়া বেগমের ছেলে রিয়াজুল ইসলামের ছবি বুকে নিয়ে অঝরো কাদলেন। ১৫ নভেম্বর এ দিনটি এলেই ছেলের অসংখ্য স্মৃতি কাঁদিয়ে বেড়ায়। তিনি বলেন, একমাত্র ছেলে রিয়াজুল ইসলাম মোল্লা ১ মাস ২২ দিন শিশু পুত্রকে রেখে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে সিডরে নিহত হন। তার সেই ছোট্ট ছেলে সিয়াম এখন এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র। সিডরের ১৮ বছর হলেও নদীর তীরবর্তী এ গ্রামের বাসিন্দারা ভেড়িবাঁধ এখন পায়নি। কাজটি শুরু হলেও ধীরগতি, ভেড়িবাঁধের কাজটি গ্রুত সম্পন্ন করার জোর দাবি জানান সরকারের প্রতি।

সিডরে নিহত এ গ্রামের একই পরিবারের ৩ জন নিহত। তারা হলেন, বৃদ্ধ নূর মোহাম্মদ মোল্লা তার স্ত্রী জহুর বেগম, ছেলে সেলিম মোল্লা ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর রাতে ঝড়ে বাড়ি থেকে বের হয়নি। যখন পানির চাপ বেড়ে যায় বাড়ি থেকে সাইক্লোন শেল্টারে যাওয়ার পথিমধ্যে পানির স্রোতে পাসেই নদীতে ভাসিয়ে নিয়ে যায় বৃদ্ধ নূর মোহাম্মদ ও স্ত্রী জহুর বেগমকে। ঝড়ের ৩দিন পরে ধান ক্ষেত থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। ছেলে সেলিম মোল্লা সাগরে ছিলো মাছ ধরার কাজে। সেখানে তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। পরিবারের তাদের ছোট ছেলে আলিম মোল্লা পুলিশ সদস্য হিসেবে ঢাকায় কর্মরত, মেয়ে বিউটি আক্তার খুলনায় স্বামীর বাড়িতে রয়েছে বলে ফুফাতো ভাই আকবার মোল্লা ও শাহদাত মোল্লা জানান। এ রকম সেদিন কালিকাবাড়ি গ্রামের প্রতিবন্ধী শিপলু শেখ, সবুজ শেখসহ ৪ জন সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিহত হন, বারইখালী কাষ্মির এলাকার আব্দল মান্না শেখ সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিহত হয়েছেন।

এ রকম মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ৯৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। এদিকে বারইখালী, ফেরীঘাট হয়ে বহরবুনিয়া ঘষিয়াখালী অভিমুখী ১৮কিলোমিটার রাস্তা ও ভেড়িবাঁধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গ্রামবাসি। তারা বলেন, ফেরীঘাট থেকে কিছু স্থানে ডাম্পিং করা হলেও পরবর্তীতে কাজটি বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান মোহাম্মদ আল বিরুনী বলেন, মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ইতোমধ্যে পানগুছি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬শ’ ৫০ কোটি টাকার ভেড়িবাঁধের কাজ ২০২৩ সালে খাউলিয়া থেকে ফেরীঘাট পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার এবং শ্রেনীখালী এলাকায় দেড় কিলোমিটার ভেরিবাঁধের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্পটে জিও ব্যাগ ফেলে ডাম্পিং এর কাজ করা হয়েছে।