/ ২ লেনের খুলনা- মোংলা মহাসড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে

২ লেনের খুলনা- মোংলা মহাসড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে

চারলেনে উন্নীত করনের দাবি

নিজস্ব সংবাদদাতা,ফয়লাহাট( রামপাল) বাগেরহাট : দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলার ব্যস্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুন। সেই সাথে বন্দরের সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে যানবাহনের চলাচাল। অথচ বন্দরের সাথে যুক্ত দুই লেনের খুলনা- মোংলা মহাসড়কের লেন বৃদ্ধি না হওয়ায় প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে।

  নৌ-পথে আমদানী-রপ্তানী বানিজ্যের উপর নির্ভর করে বিগত ১৯৫৩ সালে মোংলা বন্দর প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের এ দ্বিতীয় সমুদ্র  বন্দর দিয়ে বহির্বিশ্বের সাথে নৌপথে পন্য আমদানী- রপ্তানী বানিজ্য চলে আসছে। নৌ-পথের পাশাপাশি সড়ক পথে আমদানী -রপ্তানী বানিজ্যের প্রসার ঘটাতে বিগত ১৯৮০ সালে শিল্প শহর খুলনার সাথে মোংলা বন্দরের সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়।

 মোংলা বন্দর থেকে শিল্প শহর খুলনার রপসা ফেরিঘাট পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার দৈর্ঘের দুই লেনের একটি সড়ক নির্মান করা হয়। এ ৪২ কিলোমিটারের মধ্যে মোংলার দিগরাজ বাজার থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়ক নির্মান করে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। সড়কের নাম দেয়া হয় খুলনা- মোংলা মহাসড়ক। পরবর্তীতে রুপসা নদীর উপর সেতু নির্মান হলে এ সড়কের দৈর্ঘ্য বেড়ে প্রায় অর্ধশত কিলোমিটারে দাড়ায়্। এখন নৌপথে আমদানী রপ্তানী করা পন্যসামগ্রী  সরাসরি বন্দর থেকে খুলনা- মোংলা মহাসড়ক দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে।

 দেশের সর্ববৃহৎ খাদ্য-শষ্য সংরক্ষনাগার মোংলার জয়মনি সাইলো, রপ্তানী প্রক্রিয়া অঞ্চল ( ইপিজেড), নৌঘাটি, কোস্টগার্ড, বিজিবি , রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তরল গ্যাস ডিপো, বিভিন্ন সিমেন্ট ফ্যাক্টরী, মোংলা- ঘষিয়াখালি আন্তর্জাতিক নৌ- চ্যানেল, রামপাল বিমান বন্দর, বিশ্ব ঐতিয্য সুন্দরবনসহ বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মোংলায় হওয়ায় মোংলা বন্দরের ব্যস্তরা বেড়েছে বহুগুন। সেই সাথে বেড়েছে খুলনা- মোংলা মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা। 

 বন্দরের ব্যস্ততা বাড়লেও হয়নি খুলনা- মোংলা মহাসড়কের উন্নয়ন। আনুমানিক ১৯৮০ সালে ২ লেনের এ সড়ক নির্মান হয়।  বাগেরহাট সড়ক বিভাগের একটি সুত্র জানায় নির্মানের ৩০ বছর পর ২০১০ সালে  প্রথম দফায় সংস্কার করা হয়। এরপর এক/ দুই বছর পর পর সড়কটি সংস্কার করা হচ্ছে। বার বার সংস্কার করতে করতে মুল সড়ক থেকে এখন সড়কে উচ্চতা বেড়ে গেছে এক ফুটের মতো। এ অবস্থায় দ্রুতগতির যানবাহন পাশাপাশি ক্রস করতে গিয়ে কখনও খাদে উল্টে পড়া আবার কখনও মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। আর এতে প্রায়ই নিরিহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে সড়কে। দিন দিন এ মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও লেন বৃদ্ধি না করায় যানবাহনের মালিক- চালকরা দুর্ঘটনার শংকা মাথায় নিয়ে চলাচল করছে। 

 এ ব্যাপারে বাগেরহাট সড়ক বিভাগের কার্য-সহকারি মো. আব্দুল গণি জানান এ মহাসড়কটি চারলেনে উন্নীত করনের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। আমরা বর্তমানে কুদির বটতলা মোড় থেকে ভট্ট বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত  যাচাইয়ের কাজ শেষ করেছি। দিগরাজ পর্যন্ত সড়ক বিভাগ যাচাইয়ের কাজ শেষ করে বাজেট প্রনয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হবে। বরাদ্দ পেলে আমরা দ্রুত চারলেনর কাজ শুরু করবো।