খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে তার দেওয়া নির্দেশনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও হাসপাতালের দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২০ মে) আকস্মিক পরিদর্শনে এসে হাসপাতালের শৌচাগার ও সামগ্রিক পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি হাসপাতালের শৌচাগার ব্যবহারের অনুপযোগী উল্লেখ করে পুরো হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়মিত তদারকির কথাও জানান।
কিন্তু বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে নজরুল ইসলাম মঞ্জু আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে আগের দিনের একই চিত্র দেখতে পান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতাল চত্বরে খাবারের উচ্ছিষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা পড়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও ময়লার স্তূপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। হাসপাতালের ঝোপঝাড়ে মশার উপদ্রবও দেখা গেছে। পরিত্যক্ত টিউবওয়েলের পাশে পড়ে থাকা পচা ভাত ও তরকারি সরানোর নির্দেশ দিলেও একদিন পরও তা অপসারণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এম রহমান নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, “হাসপাতালের যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। এতে ডেঙ্গুসহ নানা রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। শৌচাগারও ব্যবহার করা যায় না। মন্ত্রী নির্দেশ দিলেও কোনো পরিবর্তন হয়নি।”
কয়েকজন রোগী জানান, মন্ত্রীর পরিদর্শনের পর তারা পরিস্থিতির উন্নতি আশা করেছিলেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার নির্দেশনাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে না।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৫০০ শয্যার জনবল কাঠামোতে পরিচালিত হলেও প্রতিদিন এখানে তিনগুণের বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। অতিরিক্ত চাপের কারণে সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায়ই দীর্ঘ ছুটিতে থাকেন, ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে।
সম্প্রতি আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগের ভাইভা পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত তালিকার বাইরে কিছু প্রার্থীকে অর্থের বিনিময়ে ভাইভায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
নাগরিক সংগঠন আমরা বৃহত্তর খুলনাবাসী-এর সাধারণ সম্পাদক সরদার আবু তাহের বলেন, “স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিলেও ২৪ ঘণ্টা পরও তার কোনো বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।ভেবেছিলাম মন্ত্রীর নির্দেশে এ চিত্রের পরিবর্তন হবে। কিন্তু না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন কিছুরই তোয়াক্তা করছে না। সরকারি হাসপাতালে এমন অব্যবস্থাপনা দুঃখজনক।”