/ চিতলমারীতে সবজির বাম্পার ফলন হলেও ন্যয্যমূল্য পাছেনা চাষিরা

চিতলমারীতে সবজির বাম্পার ফলন হলেও ন্যয্যমূল্য পাছেনা চাষিরা

শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী (বাগেরহাট)॥ সবজি চাষে অন্যতম বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় সবজির বাম্পার ফলন হলেও বজার দর কমে যাওয়ায় ন্যয্য মূল্য পাচ্ছেনা চাষিরা ফলে হতাশায় ভুগছেন তারা। এ পরিস্থিতিতে ঋণগ্রস্থ চাষিরা কিভাবে তাদের দেনা কাটিয়ে উঠবেন সে ব্যাপারে ভেবে পাচ্ছেননা তারা। বিষয়টি তদারকির মাধ্যমে ন্যায্য বাজারদর ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন চাষিরা।


স্থানীয় চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের অধিকাংশ চিংড়ি ঘেরের পাড়ে লাউ, কুমড়ো করলা, শশাসহ, বিভিন্ন ধরণের সবজি আবাদ করা হয়েছে। এখানকার কৃষাণ-কৃষাণিরা কঠোর পরিশ্রম করে ফসল ফলান। চাষিরা সবজি এবং চিংড়ি চাষ করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখলেও তাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হচ্ছে না বলে দাবি করেন অনেকে। এঅঞ্চলের উৎপাদিত সবজি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন পাইকারদের মাধ্যমে চালান হয়ে থাকে। বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তারা ঋণ এনে চাষাবাদে ব্যয় করেছেন। এ অবস্থা সবজির বাজারে ধস নামার ফলে কিভাবে চাষিদের দেনা শোধ করবেন সে ব্যাপারে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। সবজির বাজার দর কমে যাওয়ায় ব্যাপারে মধ্যস্বত্বভোগিদের কারসাজি আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন অনেকে। চাষিরা যাতে সবজির ন্যায্য মূল্য পায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার চাষিরা।
এ বিষয়ে উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের সবজি চাষি সুব্রত মণ্ডলসহ অনেকে জানান, লোকের কাছ থেকে ঋণ হয়ে সবজি চাষ করেছি ভালো দাম পাবো বলে। এখন দেখছি খরচের টাকা ঘরে তোলা দায়। প্রতি কেজি শশা বর্তমানে ৮ থেকে ১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া করোলা আগে যেখানে ২ হাজার ২৫শ’ টাকা মণ বিক্রি হতো এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ অবস্থায় চাষিদের বেঁচে থাকা দায় বলে হতাশা ব্যক্ত করেন অনেকে।


এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. সিফাত-আল- মারুফ জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ১৮ শ, ৩৬ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের লাউ, কুমড়ো করলা, শশাসহ, বিভিন্ন ধরণের সবজি আবাদ করা হয়েছে। এ বছর সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে চাষিদের চাষাবাদে পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হয়ে থাকে। অতি ফলনের জন্য বাজার দর অনেক সময় কমে যায় বলে অভিমত দেন তিনি।

জেলা কৃষি বিপনন কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম তরফদার জানান, উপজেলা পর্যায়ে তাদের বাজার মনিটরিংয়ের তেমন ব্যবস্থা নেই, তবে সবজির বাজারদর কমে যাওয়ার পেছনে কারো কারসাজি আছে কিনা সে বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করলে সেটি বিবেচানায় দেখা হবে। ন্যায্য মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রির জন্য তাদের নির্ধারিত স্থান রয়েছে। তাদের সাথে যোগাযোগ করে সেখানে বিক্রি পরামর্শ দেন তিনি।