খুবি প্রতিনিধি : অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচরিতার অভিযোগ ওঠায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ছাত্রীদের ‘বিজয়-২৪’ হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, গত ৩০ এপ্রিল প্রভোস্ট অধ্যাপক সাঈদা রেহেনাকে তারঁ আবেদনের প্রেক্ষিতে অব্যাহতি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই অফিস আদেশে সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. সেলিনা আহমেদ কে আগামী তিন বছরের জন্য বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্টের দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র ৮ শতাংশ সিট বরাদ্দের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। গভীর রাতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা প্রভোস্টের অপসারণ দাবি করেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিন ধরে নোটিশ ছাড়াই জরিমানা, সিট বাতিলের হুমকি, স্বজনপ্রীতি এবং শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে হেয় করার মতো ঘটনা ঘটে আসছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপাচার্য প্রফেসর ড. রেজাউল করিম নতুন প্রভোস্ট নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছিলেন।
এর আগে, গতবছরের ৪ নভেম্বর হলের সেবা ঘাটতি ও স্ট্রেচার-সংক্রান্ত সমালোচনামূলক পোস্ট দেওয়াকে “হল আইন পরিপন্থী এবং নাশকতামূলক” উল্লেখ করে দুই ছাত্রীকে পৃথক দুটি শোকজ নোটিশ প্রদান করে হল প্রশাসন । তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো অন্য হলের ছাত্রীকে মিথ্যা পরিচয়ে হলে প্রবেশ করানো, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া হলে নিয়ে আসা এবং পরে অনলাইনে উসকানিমূলক মন্তব্য করা।
বিজয় ২৪ হলের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আফনান আজিজ রামিন বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা ছিলো অনার্স শেষ করে মাস্টার্সে উত্তীর্ণ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের যেন সিট সংক্রান্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতায় পড়তে না হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বর্তমানে যে সিটে আছে, মাস্টার্সেও যেন সেখানেই নিরবচ্ছিন্নভাবে থাকার সুযোগ পায়।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিজয় ২৪ হলের অব্যাহতি পাওয়া প্রভোস্ট অধ্যাপক সাঈদা রেহেনার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান বিদায়ী প্রভোস্টের অব্যাহতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, সাবেক প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।