/ রামপালের দুই ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ওপরিবার কল্যান সেবা ব্যাহত

রামপালের দুই ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ওপরিবার কল্যান সেবা ব্যাহত

নিজস্ব সংবাদদাতা,ফয়লাহাট( রামপাল) বাগেরহাট : পরিত্যক্ত ভবন আর লোকবল সংকটে বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার দুই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ।


রামপাল উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানায় উপজেলার হুড়কা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাান কেন্দ্র সংস্কারের অভাবে বেশ আগেই পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। প্রায় এক বছর পুর্বে পরিত্যক্ত ভবন থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়ে স্থানীয় হুড়কা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের একটি কক্ষে আনা হয়েছে। সেখানে জনবল সংকটে সপ্তাহে একদিন সেবা প্রদান করা হচ্ছে।


বিধি মোতাবেক এ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে মোট জনবল থাকার কথা নয়জন। আছে (এফ ডব্লিউ ভি) পরিবার কল্যান সহকারি মাত্র একজন। পরিবার কল্যান সহকারি চারজন, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (এফ পি আই) একজন, উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার একজন, পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা একজন, আয়া একজন ও নৈশ্য প্রহরীসহ ৮ জনের পদ শূন্য রয়েছে।


উপজেলা অন্যতম দুর্গম ইউনিয়নের মধ্যে এটি একটি। এ ইউনিয়নের বেশির ভাগ মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ছুটে যান ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে। সেখানে মাত্র একজন পরিবার কল্যান সহকারি সপ্তাহে মাত্র একদিন সেবা দিচ্ছেন। সপ্তাহে একদিন সেবা দেয়ায় মানুষ এ স্বাস্থ্য ও পরিবার বল্যান কেন্দ্রের উপর ভরসা রাখতে পারছেনা। বাধ্য হয়ে মানুষ অন্য স্থানে গিয়ে সেবা নিচ্ছেন। তবে প্রতি সপ্তাহে অন্য ইউনিয়নে কর্মরত এমন একজন উপ- সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সেবা দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


এদিকে উপজেলার গিলাতলা বাজারের পাশে বাঁশতলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রটি দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় পরিত্যক্ত ভবনে পরিনত হয়েছে। বিকল্প কোনো ভবন না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই সেবা দিতে হচ্ছে ঝুকিপুর্ণ এ ভবনে। যারা সেবা দিচ্ছেন তারা থাকেন অনেকটা আতঙ্কের মধ্যে। ভবনের অবস্থা ভালো না থাকায় সেবা গ্রহনকারিদের অনেকেই সেখানে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান এ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে পরিবার কল্যান সহকারির পাঁচ পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। পদশ্যন্য আছে চারজনের। পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক একজনের মধ্যে একজনই শুন্য। পরিবার কল্যান সহকারি (এফ ডব্লিউভি) কাগজে কলমে একজন থাকলেও তিনি ডেপুটেশনে বাগেরহাটে কর্মরত । নৈশ্য প্রহরী পদ শুণ্য থাকায় রাতে কেন্দ্রটি রাত হলে অরক্ষিত থাকে।


এ ইউনিয়ন থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের দুরত্ব আনুমানিক ৮ কিলোমিটার। অনেকে এ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জনবল সংকটে স্বাস্থ্য সেবা না পেয়ে ওই ৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা নেন।


উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহরিয়ার জানান একদিকে জনবল সংকট অন্যদিকে অবকাঠামোগত অবস্থা খারাপ থাকায় ওই দুই ইউনিয়নের মানুষকে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেয় সঠিক স্বাস্থ্য সেবা দিতে পারছিনা। তারপরও চেষ্টা করছি সিমিত জনবল দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা ঠিক রাখতে। অবকাঠামো সমস্যা ও জনবল সংকট শুধু ওই দুই ইউনিয়নে নয়। অন্যান্য ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রেও আছে। সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে আবেদন করা হয়েছে।