এম.পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মৌসুমি তরমুজ ফলে বাজার সয়লাব হলেও ক্রেতাদের চাহিদা কম থাকায় বিপাকে পড়েছে বিক্রেতারা। সিজেনের ২ মাসে লোকসানে তালিকায় ব্যবসায়ীরা। গত বছরের চেয়ে বাজার দর বৃদ্ধি থাকায় বিপাকে পড়েছে বিক্রেতারা।
সরেজমিনে শুক্রবার মোরেলগঞ্জ উপজেলার পৌর শহরের বাজারে তরমুজ ফলের সয়লাব। প্রতিটি দোকানে তরমুজ ফলের পসরা সাজিয়ে বসে আছে বিক্রেতারা ২/১ জন ক্রেতা ক্রয় করতে দেখলেও অধিকাংশ দোকান গুলোতে তেমন নেই ভির। শহরের কাচামাল পট্টি, কাপুরিয়া পট্টি, নব্বইরাশি বাসষ্ট্যান্ড, পুরাতন মাছের বাজার সেড ও ফল সেডে কমপক্ষে এ বাজারে ৩০/৩৫ টি তরমুজ ফলের দোকান রয়েছে। এ তরমুজ ফল বিক্রেতারা কোন কোন দোকানদার ২০/২৫ বছর ব্যবসা করছে নিয়মিত এ বাজারে। বিগত বছর গুলোতে এ ব্যবসায়ীরা চৈত্র এবং বৈশাখ দু’ মাসে এ তরমুজ ব্যবসা করে ১৫/২০ হাজার টাকা লাভ ঘরে নিতে পারে। এ বছর বাজারে পর্যাপ্ত তরমুজ ফল বেপারীরা তুললেও ক্রেতাদের চাহিদা কম থাকায় বিপাকে পরেছে এ ফল ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে এ তরমুজ ফল এ উপজেলায় এ সিজনে বরিশাল, পটুয়াখালী, মহিপুর, কুয়াকাটা ও ভোলা জেলার বিভিন্ন স্থান এছাড়াও মোংলা উপজেলার বাজুয়া থেকে প্রতি বছরই হাজার হাজার নৌ পথে ট্রলার যোগে সড়ক পথে ট্রাকে করে নিয়া আসেন বেপারীরা। এ বছরেও পর্যাপ্ত ফল বাজারে বেপারীরা প্রতিদিনই নিয়ে আসছেন। তবে, গত বছরের চেয়ে দাম একটু বৃদ্ধি থাকায় ক্রেতাদের সেই অনুযায়ী চাহিদা নেই।
কথা হয় এ তরমুজ ফল বিক্রেতা সুমন শেখ, ছালেক হাওলাদার, দেলোয়ার খান, মজিবর শেখ, হাসান খান, রায়হান শেখ, সম্বু সাহা, মনিরুল ইসলাম, হায়দার খান, ইসমাইল হাওলাদার, রুবেল হাওলাদার, রুহুল শেখ, আলামিন শেখ সহ একাধিক ব্যবসায়ীরা বলেন, আড়ৎ থেকে ৩০/৩২ হাজার টাকায় বড় তরমুজের শত এ বছর তারা কিনছে। মাঝারি তরমুজ ২০/২৪ হাজার ও ছোট সাইজের তরমুজ ১২/১৪ হাজার টাকা শত কিনে খুচরা ৩০ টাকা কেজি দরে বড় তরমুজ ছোটটা ২০/২৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন। গত বছরের চেয়ে এবারে চাহিদা অনেক কম। বাজারে মাল কমতি নেই। প্রতিদিনই ট্রলার ভরে ভরে তরমুজ আসছে। অথছ বিক্রয় হচ্ছে না। যে কারনেই সিজেন শুরু থেকেই এ পর্যন্ত ১ মাসে প্রতিটি দোকানদার ১০/১৫ হাজার টাকা দেনাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। এ বছর লাভ তো দূরের কথা আসল টাকা ঘরে নিতে পারবেন কিনা এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে প্রতিটি ব্যবসায়ীরা।