/ মনিরামপুরে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারিসহ তিন নেতার পদ স্থগিত

মনিরামপুরে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারিসহ তিন নেতার পদ স্থগিত

নিজস্ব সংবাদদাতা, নেহালপুর (মনিরামপুর): যশোরের মনিরামপুর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন, জেলা শুরা সদস্য মহিউল ইসলাম ও পৌর টিম সদস্য ফারুক হোসেনের দলীয় পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। গত ৫ জুন উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি দায়িত্বশীল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল মনিরামপুরে হরিহর নদ খনন থেকে উত্তোলিত মাটি বিক্রির অর্থ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন এবং উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে উভয় দল থানায় মামলা করলেও পরবর্তীতে আপস-মীমাংসা হয়।

এ ঘটনার পর কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা জামায়াত। কমিটির প্রধান ছিলেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আরশাদুল আলম। তদন্তে সংঘর্ষের ঘটনায় আহসান হাবিব লিটন, মহিউল ইসলাম ও ফারুক হোসেনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসে বলে দলীয় সূত্র দাবি করেছে।

জানা গেছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আহসান হাবিব লিটনের পদ দুই মাস, মহিউল ইসলামের পদ তিন মাস এবং ফারুক হোসেনের পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। ওই বৈঠকে ইউনিয়ন পর্যায়ের আমির ও সেক্রেটারিরা উপস্থিত ছিলেন।

তবে পদ স্থগিতের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে প্রকাশ্যে কিছু বলতে রাজি হননি দলটির নেতারা। উপজেলা জামায়াতের আমির ফজলুল হক বলেন, “ওই তিন নেতার পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এটি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়।” চাঁদাবাজি, মাটি বিক্রির অর্থ ভাগাভাগি বা টেন্ডারবাজির অভিযোগের সত্যতা তিনি অস্বীকার করেন।

এদিকে আহসান হাবিব লিটন পদ স্থগিতের বিষয়টি স্বীকার করলেও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের কাজ আমি বা আমার সংগঠন সমর্থন করে না।”

জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও তদন্ত কমিটির প্রধান আরশাদুল আলম বলেন, “মনিরামপুরের তিন নেতার পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিতে আমি দায়িত্বে ছিলাম, তবে সিদ্ধান্ত জেলা জামায়াত নিয়েছে।” তদন্তে কী পাওয়া গেছে জানতে চাইলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন নিয়েও উপজেলা জামায়াতের বিভিন্ন স্তরে মতবিরোধ ও গ্রুপিং তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি ইউনিয়নে প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে।