/ সুন্দরবনে ইতিবাচক বার্তা, বাঘের সংখ্যা বেড়ে ১২৫

সুন্দরবনে ইতিবাচক বার্তা, বাঘের সংখ্যা বেড়ে ১২৫

এম. পলাশ শরীফ, সুন্দরবন থেকে ফিরে ঃ বাঘের সংখ্যা বেড়ে ১২৫| সুন্দরবনের জন্য ইতিবাচক বার্তা| বাঘের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং বাঘ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে|


এ বছর ‘বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি, সুন্দরবনের সমৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বন অধিদপ্তর দিবসটি উদযাপন করছে| দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর বন ভবনের ˆহমন্তী মিলনায়তনে আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে| একই সঙ্গে সুন্দরবনের সব রেঞ্জেও নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি পালিত হচ্ছে|


বন অধিদপ্তরের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা ১২৫টি| ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত পরিচালিত ক্যামেরা ট্র্যাকিং জরিপের ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়| জরিপে সুন্দরবনের ৬০৫টি গ্রিডে ১,২১০টি ক্যামেরা টানা ৩১৮ দিন স্থাপন করা হয়| ভারত, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং প্রায় ১০ লাখেরও বেশি ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষনে মাধ্যমে বাঘের চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়| বিশ্লেষনে মোট ৭,২৯৭টি বাঘের ছবি পাওয়া যায়, যা আগের যেকোনো জরিপের তুলনায় সর্বোচ্চ| পুরো জরিপে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা|


সময়ের সঙ্গে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যাঃ


বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন পদ্ধতিতে পরিচালিত জরিপে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা ছিল, ২০০৪ সালে: ২১টি শাবকসহ মোট ৪৪০টি বাঘ| ২০০৯ সালে: বন বিভাগের ধারণা অনুযায়ী ৪০০ থেকে ৪৫০টি| ২০১৫ সালে: প্রথম ক্যামেরা ট্র্যাকিং জরিপে সংখ্যা নেমে আসে ১০৬টিতে| ২০১৮ সালে: ৪৯১টি ক্যামেরার জরিপে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৪টি| ২০২৪ সালে: সর্বাধুনিক ক্যামেরা ট্র্যাকিং ও তথ্য বিশ্লেষণে সংখ্যা বেড়ে হয় ১২৫টি|
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক এই বৃদ্ধি সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান (ইকোসিস্টেম) সুস্থ থাকার ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে| দীর্ঘদিন ধরে বন সংরক্ষণ, শিকার দমন এবং অভয়ারণ্য সম্প্রসারণের সুফল হিসেবেই এই অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে|

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম বলেন, “বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে সুন্দরবনের সব রেঞ্জেই নানা আয়োজন ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপিত হবে| বাঘ শুধু সুন্দরবনের সৌন্দয্যের প্রতীক নয়, এটি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য এবং পুরো সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান টিকিয়ে রাখার অন্যতম প্রধান শক্তি|


ক্যামেরা ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১২৫টিতে দাঁড়িয়েছে, যা দীর্ঘদিনের সংরক্ষণ প্রচেষ্টার ইতিবাচক ফল| বন জলদস্যুমুক্ত করা, শিকারীদের কঠোরভাবে দমন এবং অভয়ারণ্য সম্প্রসারণের ফলে বাঘের নিরাপদ প্রজনন ও বিচরণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে|


তবে বাঘ রক্ষায় বনের ওপর মানুষের ক্ষতিকর নির্ভরতা কমাতে হবে| সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে, যাতে কোনো বাঘ লোকালয়ে চলে এলে তাকে হত্যা না করে নিরাপদে বনে ফিরিয়ে দেওয়া যায়| সুন্দরবনকে টিকিয়ে রাখতে হলে বাঘকে বাঁচাতে হবে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বন বিভাগ ও স্থানীয় জনগণ একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে|”

প্রসংগত, ২০১০ সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত টাইগার সামিট-এ গৃহীত সিদ্ধান্তের পর থেকে প্রতিবছর ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস পালিত হয়ে আসছে| বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে সর্বোচ্চ শিকারি হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা|