রিপন হোসেন সাজু, নেহালপুর (মনিরামপুর) : ৭শ’ মিটার সড়ক জনদুর্ভোগের মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে। এই সড়কটি রাজারহাট-চুকনগর মহাসড়কের যশোরের মনিরামপুর পৌরশহরের রাজগঞ্জ মোড় হতে উত্তরমাথাস্থ একটি সিনেমা হল পর্যন্ত বিস্তৃত। দুই লেনের মহাসড়কের তুলনায় এই ৭শ’ মিটার অনেক সরু হওয়ায় একটি বাস/ট্রাক ক্রসের সময় যানজটের সৃষ্টি হয়।
তিদিন কয়েক ঘন্টা যানজটের কবলে চরম দুর্ভোগে পড়ে মানুষ। স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এই ৭শ’ মিটার সড়ক নির্মাণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এদিকে বিগত সময় ‘বাইপাস’ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আজও তা আলোর মূখ দেখেনি।
সম্প্রতি প্রায় ২শ’৭ কোটি টাকা ব্যয় ধরে বাইপাস সড়ক নির্মাণের প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে সওজ (সড়ক ও জনপদ বিভাগ) সূত্রে জানাগেছে। তবে, পৌরশহর সংলগ্ন খননকৃত হরিহর নদীর পাড় বিকল্প সড়ক হিসেবে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রস্তাবিত বাইপাস সড়ক নির্মাণ ব্যয়ের সিকেভাগে সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের এমপি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস বাইপাস সড়ক নির্মানের উদ্যোগ নিলেও জমি অধিগ্রহন জটিলতায় ভেস্তে যায়। ২০১৯ সালে রাজারহাট-চুকনগর মহাসড়কটি দুই লেনে উন্নীত হলেও মালিকানা ও বরাদ্দকৃত অর্থ জটিলতায় পৌরশহরের এই ৭শ’ মিটার প্রশস্ত হয়নি। এ নিয়ে নানা সমালোচনার মূখে পড়ে তৎকালিন প্রতিপ্রন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বাইপাস সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেন। কিন্তু কাজটি এলজিইডি নাকি সওজ (সড়ক ও জনপদ বিভাগ) করবে এ নিয়ে জটিলতায় প্রারম্ভে থমকে গেলেও পরবর্তিতে সওজের আওতায় চলে যায়। সওজ যশোর অঞ্চলের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আলাউর রহমান জানান, মনিরামপুরে বাইপাস সড়ক নির্মানের ২শ’ ৭ কোটি টাকার প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে পৌরশহরের পাস দিয়ে প্রবাহিত খননকৃত হরিহর নদীর পাড় বাইপাস সড়ক নির্মানের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয়রা। পৌর এলাকায় এই নদীর পাড়ের আনুমানিক ২ কিলোমিটার সড়ক নির্মান হলেই বাইপাসের সড়ক হয়ে যাবে। এতে প্রস্তাবিত বাইপাস সড়ক নির্মাণের ব্যয়ের সিকেভাগেই সম্ভব। মনিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ জানান, কাজটি জটিল হলেও সম্ভব। এতে প্রস্তাবিত বাইপাস সড়ক নির্মানের ব্যয়ের অনেক কম লাগতে পারে। সওজ’র নাম প্রকাশে অনৈচ্ছুক এক প্রকৌশলী জানান, সদিচ্ছা থাকলে নির্মান সম্ভভ। এতে কিলোমিটার প্রতি ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হত পারে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে সওজ যশোর অঞ্চলের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আলাউর রহমান জানান, বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।