পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : সবুজ গাছপালা, শান্ত পরিবেশ আর চারদিকে শুধু পাখির কলকাকলি— এ যেন কোনো কৃত্রিম অভয়ারণ্য নয়, প্রকৃতির নিজের হাতে গড়া এক স্বর্গরাজ্য। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার হাড়িয়া আবাদ গ্রামে এখন দেখা মিলছে এমন মনোরম দৃশ্যের। প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পাখির আনাগোনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে এই জনপদ।হাড়িয়া গ্রামের নারান রায়ের বাড়ির আঙিনায় থাকা সুন্দরবনের বাইন গাছে পানকৌড়ি, বক, হাঁসসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া পাশের রশিদ মিয়ার বাড়ির তেঁতুল, নারকেল গাছসহ বিভিন্ন গাছেও পাখিদের নিরাপদ অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাখিদের অবাধ বিচরণে এলাকাটি যেন এক প্রাকৃতিক অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
হাড়িয়া আবাদ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই শুরু হয় পাখিদের ডানা ঝাপটানো আর কিচিরমিচির গান।এলাকার স্থানীয় বিভিন্ন প্রজাতির গাছে বাসা বেঁধেছে নানা প্রজাতির পাখি। এখানকার প্রকৃতি যেন পাখিদের কলতানে এক জীবন্ত রূপ ধারণ করেছে। গ্রামে আসা পাখিদের মধ্যে রয়েছে:সাদা বক ও কানি বক পানকৌড়ি ও ডাহুকশালিক, চড়ুই ও বাবুই মাছরাঙা এবং ঘুঘুসহ নানা প্রজাতির দেশীয় পাখি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাড়িয়া আবাদ এলাকার বিস্তীর্ণ ঘের এবং জলাশয় পাখিদের জন্য প্রচুর খাবারের জোগান দেয়। এছাড়া এলাকার সাধারণ মানুষ পাখিদের প্রতি অত্যন্ত সদয়। কেউ এখানে পাখি শিকার করে না, বরং পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে সবাই সচেতন। বিঘ্নহীন পরিবেশ ও পর্যাপ্ত খাবারের খোঁজে দূর-দূরান্ত থেকেও অনেক পাখি এখানে এসে ভিড় করছে। স্থানীয়রা জানান ,আমাদের ঘুম ভাঙে পাখির ডাকে। হাড়িয়া আবাদের এই প্রকৃতি এখন পাখিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বিকেল হলে যখন সব পাখি একসাথে বাসায় ফেরে, সেই দৃশ্য দেখার মতো হয়।
স্থানীয়দের মতে, বর্তমানে গ্রীষ্মকাল হওয়ায় উপজেলার অন্যান্য এলাকায় পাখির উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেলেও হাড়িয়া আবাদে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাখির বিচরণ রয়েছে। ফলে প্রতিদিনই পাখিদের কলতানে মুখর থাকে পুরো গ্রাম।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শীত মৌসুমে এ এলাকায় পাখির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়। তখন সরালি হাঁস, চখাচখি, বালিহাঁস, গার্গেনি হাঁস, সুচিপুচ্ছ হাঁস, গাঙচিল, জলপিপি ও কাদাখোঁচাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি-বিদেশি অতিথি পাখির আগমন ঘটে। শীতকালে পুরো এলাকা যেন পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল ও বিচরণভূমিতে পরিণত হয়।পাখিদের এই মেলা আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও সাধারণ দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে বিকেল বেলা হাড়িয়া আবাদের এই নান্দনিক রূপ দেখতে ভিড় জমে বেশি।
এ বিষয়ে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বনবিবি’র সভাপতি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রকাশ ঘোষ বিধান বলেন, পাখি সংরক্ষণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। এ লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছে গাছে পাখির বাসা স্থাপন করা হয়েছে। আমরা চাই, মানুষের পাশাপাশি পাখিরাও এ অঞ্চলে নিরাপদ আবাসস্থল পেয়ে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকুক।তিনি আরও বলেন, পাখি ও প্রকৃতি রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিই হতে পারে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।