/ নয়টি বোর্ডে একক ও অভিন্ন প্রশ্নে হবেএইচএসসি পরীক্ষা: খুলনায় শিক্ষামন্ত্রী

নয়টি বোর্ডে একক ও অভিন্ন প্রশ্নে হবেএইচএসসি পরীক্ষা: খুলনায় শিক্ষামন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে হয় যা বিগত বছরগুলোতে হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে| বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় অডিটোরিয়ামে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরের উদ্যোগে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ গ্রহণের লক্ষ্যে কেন্দ্রসমূহের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন|


যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফারুখে আযম মু: আব্দুস ছালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজি মো: রেজাউল হক, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো: রুহুল আমিন, কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্টার প্রফেসর এসএম তৌহিদুজ্জামান| খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন|


দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে দীর্ঘদিন ধরে রিভার্স গিয়ারে চালানো হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা যেন একটি গাড়ি রিয়ার ভিউ মিররে তাকিয়ে রিভার্স গিয়ারে চালিয়ে যাচ্ছি| কিন্তু আর এভাবে চলতে পারে না| ৫৪ বছর আমরা পেছনের দিকে চলেছি, এখন থেমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে| শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করেই জাতিকে এগিয়ে নিতে হবে|


শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম বড় সংকট হলো শিক্ষক স্বল্পতা| তিনি জানান, অনেক জেলায় অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই| একটি জেলার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ১ হাজার ১২২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৩৩টিতে প্রধান শিক্ষক নেই| এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতায় হাজার হাজার পদ শূন্য পড়ে আছে| তিনি বলেন, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় এক দশক ধরে বহু শিক্ষক প্রধান শিক্ষক হওয়ার সুযোগ না পেয়েই অবসরে গেছেন| বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষকের ঘাটতি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক|


বদলি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে অনেক শিক্ষক গ্রামীণ বিদ্যালয় ছেড়ে শহরমুখী হয়েছেন| ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নেই| কোনো কোনো বিদ্যালয়ে পাঁচ বা ছয়জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে দুই বা তিনজন দিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে| তিনি জানান, বদলি কার্যক্রমকে আরও ¯^চ্ছ ও কার্যকর করতে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে| উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের স্বমন্বয়ে এসব কমিটি গঠন করা হবে|

সভায় শিক্ষামন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার এক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তদন্ত করা হয়েছে এবং সত্যতা মিলেছে| অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন|


প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল কর্মসূচি নিয়ে তিনি বলেন, নতুন অর্থবছরে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে| তবে কোথাও নিম্নমানের বা পচা খাবার সরবরাহ করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে|
আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ| অতীতে নকলবিরোধী অভিযান সফলভাবে বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষক, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমšি^ত প্রচেষ্টায় পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব|


তিনি সাধারণ শিক্ষা, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার ফলাফলের মধ্যে বিদ্যমান ˆবষম্যের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন| মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার তুলনামূলক বেশি হলেও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কম কেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের গবেষণা ও বিশ্লেষণের আহ্বান জানান|


পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতির সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শুধু নম্বর যোগফল যাচাই নয়, প্রয়োজনে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থাকতে হবে| এতে শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচার পাবে এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বাড়বে|


সভায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অংশ নেন| আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়|