সুুরক্ষা খাচা ও পরিচর্চার অভাব
ফয়লাহাট( রামপাল) বাগেরহাট : বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় বজ্রপাত ঠেকাতে ১০ লাখ টাকার তাল গাছের চারা রোপন প্রকল্প ভেস্তে গেছে| কোনো সুরক্ষা খাঁচা না থাকায় ৬ বছর পুর্বে রোপন করা সেই চারার বেশির ভাগ গরু- ছাগলের পেটে গেছে|
রামপাল উপজেলা ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের একটি সুত্র জানায় বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বজ্রপাত ঠেকাতে উপকুলীয় এ উপজেলায় তাল গাছের চারা রোপন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়| ২০১৯- ২০২০ অর্থ বছরে এ উপজেলার ১০ ইউনিয়নে এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় ১০ লাখ টাকা| সুত্র বলছে ওই টাকায় ঠিকাদারের মাধ্যমে তাল গাছের চারা কিনে এনে তা রোপনের জন্য ১০ ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের হাতে দেয়া হয়|
জনপ্রতিনিধিরা ওই চারা নিয়ে স্ব -স্ব ইউনিয়নের রাস্তার পাশে, সরকারি মালিকানাধীন উম্মুক্ত স্থান, বিভিন্ন আবাসনে ওই চারা সারিবদ্ধভাবে রোপন করেন| রোপন করা চারা সুরক্ষার ও পরিচর্চার জন্য কোনো পৃথক অর্থ বরাদ্দ না থাকায় উম্মুক্ত অবস্থায় রাখা হয়| রোপন করা চারার ˆদর্ঘ্য ছিল মাত্র ৮-৯ ইঞ্চি| প্রতি ইউনিয়নে এক হাজার থেকে এক হাজার দুইশত চারা রোপন করা হয়| কিছুদিন যেতে না যেতেই সুরক্ষা খাচা ছাড়া রোপন করা চারা গরু- ছাগলের পেটে চলে যায়|
একটি ইউনিয়নের একজন ইউপি সদস্য নাম না জানিয়ে বলেন সরকারি ভাবে বজ্রপাত ঠেকাতে বিগত সরকারের আমলে ১০ লাখ টাকার তাল গাছের চারা রোপনের প্রকল্প হাতে নিয়েছিল| আমরা সেই চারা সরকারি রাস্তা ও সরকারি উম্মুক্ত স্থানে ােপন করেছিলাম| কিন্তু চারা সুরক্ষার জন্য কোনো পৃথক অর্থ বরাদ্দ ছিলনা| এ কারনে ছেড়ে দেয়া গরু- ছাগলে চারা খেয়ে ফেলেছে| তিনি আরও বলেন চারা রোপনের পাশাপাশি সুরক্ষা খাচার ব্যবস্থা করলে ১০ লাখ টাকার তালের চারা জলে যেতো না|
তাল গাছের চারা রোপন করা হয়েছিল এমন স্থানীয় একটি ইউনিয়নে কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সেই চারার কোনো হদিস নেই| স্থানীয়রা জানান চারা রোপনের পর কোনো খাচা না দেয়ায় বেশির ভাগ চারা গরু- ছাগলে খেয়ে ফেলেছে| চারা রোপনের পর কেউ কোনো দিন দেখতেও আসেনি| তাছাড়া অনেক চারা মরে গেছে| ঠিক মতো যত্ন নিয়ে কিছু চারা বাচনো যেতো এমনটা মনে করেন তারা|
উপজেলা ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন যতদুর জানি বিগত ২০১৯- ২০২০ অর্থ বছরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের বরাদ্দ দেয়া ১০ লাখ টাকার চারা টেন্ডারের মাধ্যমে কিনে এনে তা বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের কাছে এক হাজার থেকে এক হাজার দুই শত চারা বিতরন করা হয়| তারা সেই চারা রোপনও করেন যথা সময়| কিন্তু চারা সুরক্ষা খাচার জন্য পৃথক কোনো অর্থ বরাদ্দ ছিলনা| সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকলে অনেক চারা বেচে যেতো| তাহলে সরকারের এ প্রকল্প আলোর মুখ দেখতো|