/ খুলনা- মোংলা মহাসড়কে অধিকাংশ বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী বিশ্রামাগার নেই

খুলনা- মোংলা মহাসড়কে অধিকাংশ বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী বিশ্রামাগার নেই

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফয়লাহাট(রামপাল) বাগেরহাট : খুলনা- মোংলা মহাসড়কে বেশিরভাগ বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী বিশ্রামাগার নেই| দুই একটিতে থাকলেও তা থাকে ভবঘুরেদের দখলে| যাত্রীরা রোদ- বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষায় থাকেন|


জানা গেছে খুলনা থেকে বন্দর শহর মোংলা পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার ˆদর্ঘের এ মহাসড়কে ২০ টির মতো বাস স্ট্যান্ড রয়েছে| এসব বাস স্ট্যান্ডের বেশিরভাগ স্ট্যান্ডে কোনো যাত্রী বিশ্রামাগার নেই| প্রতিদিন ভোর থেকে রাত ৯-১০ পর্যন্ত বাসে যাত্রীউঠা- নামা করেন| অনেকে সময় মতো বাস ধরতে না পারলে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষায় থাকেন| এতে বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পায়খানা- প্রস্রাব এলে বিপাকে পড়তে হয়| বৃষ্টি হলে আশে পাশের চা-দোকান অথবা হোটেল রেস্তোরা য়গিয়ে দাড়াতে হয়|


মহাসড়কেরপুর্ব রুপসা, কাটাখালি, সুখদাড়া, ভাগা,দিগরাজ ও মোংলা ঘাটে যাত্রী বিশ্রামাগার থাকলেও তা প্রায়ই সময় থাকে ভবঘুরেদের দখলে| সম্প্রতি এসব যাত্রী বিশ্রামাগার মধ্যে ভাগাবাস স্ট্যান্ডে বাগেরহাট জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মান করা যাত্রী বিশ্রামাগার ঘুরে দেখো গেছে ভিতরে নোংরা ময়লা আবর্জনায় ভরা| দুর্গন্ধে নাকেরু মাল চেপে দাড়াতে হয়|তিন-চারটি যাত্রীবিহিন মাহেন্দ্র যাত্রী বিশ্রাম গারের সামনে দাড়িয়ে রয়েছে| এতে বিশ্রামাগারে রভিতরে ঢোকার কোনো উপায় নেই| অথচ বিশ্রামা গারের সামনে লেখা রয়েছে এখানে যাত্রী পরিবহন রাখা নিষেধ|

আনুমানিক বিগত ১৯৮০ সালের পর থেকে এ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুর ুহয়| এ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে মহাসড়কের ইলাইপুর,খাজুরা, লখপুর, শ্যামবাগাত, চুলকাঠি, ভট্ট, সোনাতুনিয়া বলিয়াঘাটা, সোনতুনিয়া মাদ্রাসা, ভরশাপুর, ফয়লাহাট, রনশেন, ঝনঝনিয়া চেয়ারম্যান মোড়, তেতুলিয়া সেতু, বগুড়া সেতু, বেলাই সেতু, গোনাবেলাই বাজারবাস স্ট্যান্ডে কোনো যাত্রী বিশ্রামা গারগড়ে ওঠেনি| প্রতিদিন এসব বাসস্ট্যান্ড থেকে খুলনা, মোংলা, বাগেরহাট, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শতশত যাত্রী বাসে যাতায়াত করেন|

এ সড়কে নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন বেশ কয়েকজন কর্মজীবী নারী ও পুরুষ বলেন আমরা নিয়মিত বাসেই যাতায়াত করি| কিন্তু বেশির ভাগ বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী বিশ্রামাগার না থাকায় আমাদেও মতো অন্যান্য সাধারন যাত্রীদের খোলা আকাশেরনীচে রোদ- বৃষ্টিরমধ্যে দাড়িয়ে বাসের অপেক্ষায় থাকতে হয়| বিশেষ করে বর্ষা মেীসুমে আশেপাশের দোকানে গিয়ে দাড়াতে হয়| নারী ও শিশুদের টয়লেট সমস্যায় পড়তে হয়| এসববাস স্ট্যান্ডে যাত্রী বিশ্রামাগার থাকলে বিড়¤^নায় পড়তে হতো না|

মহাসড়কের কাটাখালি, ফয়লাহাট, চুলকাঠি, ভাগা, দিগরাজ ও মোংলা বাসস্ট্যান্ড থেকে সবচেয়ে বেশি যাত্রী বাসে উঠানামা করেন| এর মধ্যে কাটাখালি, দিগরাজ ও মোংলা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী বিশ্রামাগার থাকলে ও যাত্রীদের বসার ¯^াভাবিক পরিবেশ নেই| অপরিস্কার- অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে যাত্রীরাব সতেচায় না| ফয়লাহাট, চুলকাঠি সহ অন্যান্য বাসস্ট্যান্ডে টয়লেট সহ একটি করে যাত্রী বিশ্রামাগার নির্মানের দাবী করেছে যাত্রী কল্যান সমিতির একজন সদস্য|

রুপসা- মোংলা বাস মালিক সমিতির একজন সদস্য বলেন এ মহাসড়কে আগের তুলনায় যাত্রী পরিবহন বেড়ে গেছে| সেই তুলনায় নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ডগুলোতে যাত্রী সেবার মান বাড়েনি| বেশিরভাগ স্ট্যান্ডে যাত্রী বিশ্রামাগার নেই| এখন মোংলা বন্দরের কর্ম ব্যস্ততা বেড়েছে বহুগুন| তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, মোংলা ইপিজেড সহ বিভিন্ন কলকার খানায় মানুষের কর্মসংস্থান বেড়েছে| সেই তুলনায় সড়কে যাত্রী সেবার মান বাড়েনি| খুলনাও বাগেরহাট জেলা পরিষদ উদ্যেগ নিয়ে যেসব বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী বিশ্রামগার নেই সেইসব স্ট্যান্ডে ছোট আকারের একটি করে যাত্রী বিশ্রামাগার নির্মানের উদ্যেগ নিতেপারে|