/ টানা বর্ষায় রামপালে ডুবেছে আড়াইশ হেক্টর সবজিক্ষেত বাড়ছে দাম-কমেছে সরবরাহ

টানা বর্ষায় রামপালে ডুবেছে আড়াইশ হেক্টর সবজিক্ষেত বাড়ছে দাম-কমেছে সরবরাহ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফয়লাহাট (রামপাল) : দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দুই দফা ভারী বর্ষণে বাগেরহাটের উপকূলীয় উপজেলা রামপালের বিস্তীর্ণ সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় সবজিগাছ পচে ও মরে যাওয়ায় চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম।


উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রামপাল উপজেলায় ৪০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করা হয়। এর মধ্যে টানা বর্ষণে প্রায় আড়াইশ হেক্টর জমির সবজিক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার উজলকুড় ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি সবজি উৎপাদন হয়। এছাড়া বাইনতলা, গৌরম্ভা ও রামপাল সদর ইউনিয়নের কিছু এলাকায় সবজির চাষ রয়েছে। তবে উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নে লবণাক্ততার কারণে সবজি চাষ সীমিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাজারের ওপরই নির্ভরশীল।
উপজেলার গোবিন্দপুর, দেবীপুর ও উজলকুড় এলাকার একাধিক কৃষক জানান, আষাঢ় ও শ্রাবণের টানা বর্ষণে সবজিক্ষেতে পানি জমে থাকায় গাছে মড়ক লেগেছে। অনেক ক্ষেতেই গাছ মরে গেছে। থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় ক্ষেতের পানি নামছে না। এতে নতুন করে চাষ শুরু করাও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সবজি সরবরাহ করতে পারছেন না তারা।
এ অবস্থায় স্থানীয় ফয়লাহাট, ভাগা, পেড়িখালী ও গিলাতলা বাজারে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের খুলনা থেকে সবজি এনে বিক্রি করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গত দুই সপ্তাহে প্রায় সব

ধরনের সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকায়।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শশা ৩০-৩৫ টাকা, জিঙা ৫৫-৬০ টাকা, করলা ১০০-১১০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কুশিয়ানা ৫০-৬০ টাকা, কচুর মুখি ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, ধুন্দল ৪০-৪৫ টাকা এবং ওল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাউ আকারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং কাঁচকলা প্রতি হালি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, কয়েক সপ্তাহ আগেও সবজির দাম সহনীয় ছিল। কিন্তু বৃষ্টির পর দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। উপকূলীয় এই এলাকায় অধিকাংশ পরিবার বাজারের সবজির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বাড়তি দাম দিয়েই তাদের প্রয়োজন মেটাতে হচ্ছে।
রামপাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন, উপজেলায় এবার ৪০০ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছিল। ভারী বর্ষণে প্রায় আড়াইশ হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব বাজারেও পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকরা যাতে দ্রুত পুনরায় সবজি চাষ শুরু করতে পারেন, সে জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।