হাসান চৌধুরী: খুলনার পাইকারি ও খুচরা বাজারে সবজি-সহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে টানা বৃষ্টিপাত, সরবরাহে বিঘ্ন, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মৌসুমি উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারেও পড়েছে।
খুলনার বড়বাজার, ময়লাপোতা সন্ধ্যা বাজার, রয়েল মোড়, সোনাডাঙ্গা,খালিশপুর, চিত্রালী,চিত্রালি বিহারী কলোনি বাজার,দৌলতপুর বাজার, মহেশ্বর পাশা কালীবাড়ি,বয়রা বাজারসহ বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন, করলা,কাকরোল,পটল, ঢেঁড়স, শসা, কাঁচা মরিচ, পেঁপে, বরবটি সিম, ঝিঙ্গে, কুসি,লাউ,টমেটোসহ অধিকাংশ সবজির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আড়তে বেশি দামে পণ্য কিনতে হওয়ায় খুচরা পর্যায়েও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সাম্প্রতি খুলনার বাজারে মাছ-মাংস ও অধিকাংশ সবজির দাম এক সপ্তাহে আরও বেড়েছে।
শুধু সবজিই নয়, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ডিম, ভোজ্য তেলসহ আরও কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী।এতে সীমিত আয়ের মানুষ, দিনমজুর ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক ক্রেতা জানান, আগের তুলনায় একই টাকায় এখন অনেক কম পরিমাণ বাজার করতে হচ্ছে।বিক্রেতারা জানান, টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন উৎপাদন এলাকায় সবজির ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় পাইকারি বাজারে দাম বাড়ছে। সেই বাড়তি মূল্যই খুচরা বাজারে গিয়ে আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে নিয়মিত তদারকি, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং অযৌক্তিক মুনাফা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে দ্রব্যমূল্য কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।একই সঙ্গে কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য সংগ্রহ ও দ্রুত বাজারজাত নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে। খুলনার পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলিতে সবজির দাম কেজিতে বেশি ১৫-২০ টাকা বিভিন্ন বাজারে।অথচ হাত বদলে কেজি প্রতি বেড়ে যাচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা।এছাড়াও কিছু কিছু পণ্য আবার অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
বরজ এর কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা,মাঝারি সাইজের লাউ ৫০ টাকার জায়গায় ১০০টাকা,ঢেঁড়স ৫০ টাকার জায়গায় ১০০ টাকা,বেগুন ১০০ টাকার জায়গায় ১৭০-১৮০ টাকা,এছাড়াও ইলিশ মাছ প্রতি কেজি ২০০০-২৫০০ হাজার টাকার জায়গায় ৩০০০-৩৫০০ টাকা।ভরা মৌসুমে পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি ১৮ থেকে ২০ টাকা দরের টমেটো খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। এদিকে হঠাৎ করে চিনির দাম কেজি প্রতি ৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
খুলনার বড়বাজার,ময়লাপোতা সন্ধ্যা বাজার, বয়রা বাজার, খালিশপুর, চিত্রালী, দৌলতপুর পাইকারি কাঁচাবাজারে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি কেজি টমেটো ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ১৭০ টাকা, বরবটি সিম ১০০ টাকা, গাজর ২০০ টাকা, ক্ষিরাই ৮০-১০০ টাকা,লাল শাক ৪০-৫০টাকা, ডাঁটা ৫০-৬০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা।
এছাড়াও অন্যান্য বাজার, খালিশপুর চিত্রালী, আড়ংঘাটা, ফুলবাড়ি গেট, বয়রা, ময়লাপোতা সান্ধ্যবাজার, সোনাডাঙ্গা, রেলিগেট নিরালা বাজারগুলোতে এক এক জায়গায় এক এক রকম ১৫-২০ টাকার পার্থক্য রয়েছে।
নিরালা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আকরাম বলেন, সবজির দাম এই মৌসুমে অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।ময়লাপোতা সন্ধ্যা বাজারে ক্রেতা স্কুল শিক্ষক মেহেদী হাসান বলেন, পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারের প্রতিটি পণ্যের দাম প্রায় ১৫ থেকে ২০-২৫ টাকা বেশি। নিরালা বাজারে সবজি ব্যবসায়ী সোহাগ বলেন, সবজির দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি। টমেটোর সরবরাহ কম হওয়ার কারণে দাম অতিরিক্ত বেড়েছে। বাজারে করতে আসা আবিদুর রহমান বলেন, বড় বাজার থেকে বাজার করি।খুচরা বাজারের চেয়ে এখানে দাম বেশি একটা কম নয়। বড় বাজারের ব্যবসায়ী হাসেম স্টোরের আবুল হাসেম বলেন, ১৫দিন আগে পণ্যের দাম যা ছিল এখন বর্তমানে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। মেসার্স সাউদার্ন ট্রেডার্স এর ম্যানেজার সিদ্দিক বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির জন্য সকল পণ্যের দাম বেড়েছে। দৌলতপুর কাঁচাবাজারে পাইকারি ব্যবসায়ী বারিক শেখ ও মো. রাজীব বাজারদর বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে বলেন, আমরা কিছু জানি না তবে ১ সপ্তাহ যাবত পাইকারি কিনার সময় বেশি দামে কিনতে হয় তাই সামঞ্জস্যতা রক্ষা করে সামান্য লাভে আমরা খুচরা বিক্রি করছি।