পুলিশ সুপার, ওসিকে জানিয়েও প্রতিকার মিলছে না
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার রূপসা নদীর ওপারে বেড়িবাঁধ সড়কে অবস্থিত মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলোতে প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনা ঘটছে। প্রায় প্রতি রাতেই কারখানার প্রধান বৈদ্যুতিক তার, মূল্যবান মোটর, বরফ কলের তারসহ যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি পুলিশ সুপার ও রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানিয়েও লাভ হচ্ছে না।
ব্যবসায়ীরা জানান, রাত ১০টার পরেই মাদকসেবী ও উঠতি সন্ত্রাসীদের তৎপরতায় ওই এলাকায় চলাফেরাই অনিরাপদ হয়ে ওঠে। কারখানাগুলোতে নিরাপত্তা প্রহরী থাকলেও তাদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না তারা। পুলিশের টহল গাড়ি আসলে তারা কয়েক মুহূর্ত গা ঢাকা দেন। পরে আবারও তাদের অপতৎপরতা শুরু হয়। তাদের দৌরাত্বে অসহায় জীবন যাপন করছে ওই এলাকার ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৯ জুন মডার্ন সী ফুডের কারখানার প্রায় ৭ লাখ মূল্যের প্রধান বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়ে যায় চোরেরা। ওই তার সংযোজনের পর আবারও কারখানাটিতে চুরি হয়। গত মাসে কারখানার এসির পাইপ, মেশিন রুম থেকে মূল্যবান মোটর চুরি হয়েছে। ওই এলাকার হক আইস ফ্যাক্টরির স্টোরের তালা ভেঙে মূল্যবান যন্ত্রাংশ নিয়ে গেছে। এছাড়া মেশিন রুম থেকে পিতলের মূল্যবান যন্ত্রাংশ, মাটি খুঁড়ে তার নিয়ে গেছে। সাউদার্ন সী ফুডের বিদ্যুতের প্রধান তার কেটে ফেলে চোরেরা। গত মঙ্গলবার ৭/৮ জন চোর মডার্ন সী ফুডের মূল্যবান তার নিয়ে যায়।
কারখানার মালিকরা জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে তারা স্বাক্ষাত করেছেন। রূপসা থানায় বাগমারা এলাকার আজিজুল, জয়নাল, হাফিজুল, শাহিন, মামুন, ভাঙ্গারি দোকানদার ফয়সালের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু এই বিষয়ে পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখা যায় না। এরা দিন দিন এতোটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, যে দারোয়ানরাও এদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করার সাহস পান না। কয়েকজন দারোয়ান এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলেও তারা অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে রূপসা থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক মীর বলেন, অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব। লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন ? জানতে চাইলে তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখছি।