ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি : খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা খাতে এক উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। উপজেলার ২১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৪টিতেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ জনেরও নিচে নেমে এসেছে। তারমধ্যে কয়েটিতে ৩০-৩৫ শিক্ষার্থীর কথা বললেও বাস্তবে আছে ১০-১২ জন।
ডুমুরিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে উপজেলার কুড়েঘাটা স.প্রা.বি ১৫, লতাবুনিয়া বাশতলা স.প্রা.বি ২২, শালতা স.প্রা.বি ২৭, সোনারতরী ও খোরেরাবাদ স.প্রা.বি ৩০, বৃত্তিবিরালা স.প্রা.বি ৩২, ভদ্রা ও কাঠালিয়া স. প্রা.বি ৩৪, বকুলতলা ধানিবুনিয়া ও খুটাখালী স. প্রা.বি ৩৫, বাগারদাইড় ও খাগড়া বুনিয়া স.প্রা.বি ৩৬, মান্দ্রা ও দেড়ুলী স.প্রা.বি ৩৭, তালতলা কুশারহুলা স.প্রা.বি ৩৯, মুজারঘুটা ও খড়িবুনিয়া স.প্রা.বি ৪২, পল্লীশ্রী ও পূর্ব পাতিবুনিয়া স.প্রা.বি ৪৩, পি.কে বলাবুনিয়া ও তেলিখালী স.প্রা.বি ৪৫, চরচরিয়া স.প্রা.বি ৪৬, কৈপুকুরিয়া ও কাঞ্চননগর স.প্রা.বি ৪৭ জন ছাত্র-ছাত্রী থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে কয়েকটি স্কুলে গেলে ভিন্ন চিত্র মিলেছে। এখানে উল্লেখ্য এ-সকল স্কুলে ২ থেকে ৬ জন পর্যন্ত শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। পর্যাপ্ত শিক্ষক ও অবকাঠামো থাকার পরও আশঙ্কাজনক হারে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় এই বিদ্যালয়গুলোর ভবিষ্যৎ শিক্ষাকার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
১০ জুন বুধবার সকালে দূর্গম পথে উপজেলার সাহস ইউনিয়নের লতাবুনিয়া বাশতলা স.প্রা.বিদ্যালয়ে পৌছালে ভগ্নদশাগ্রস্থ ৩ কক্ষের একচালা টিনের ঘরের সামনে জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা গেছে। ভেতরের ১টি কক্ষে শিক্ষক পবিত্র রায় ১ম শ্রেণির ৩ জন ও ২য় শ্রেণির ১ জন নিয়ে একত্রে পড়াচ্ছেন। অন্যরুমে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হেমলতা মন্ডল প্রাক-প্রাথমিকের কয়েকজন শিশুকে পড়া দিচ্ছেন। ওই বিদ্যালয়ের খাতায় মোট ২২ শিক্ষার্থী থাকলেও উপস্থিতি ১০ জনের। সেখান থেকে আটলিয়া ইউনিয়নের কুড়েঘাটা স.প্রা. বিদ্যালয়ের সুন্দর ভবনের একটি কক্ষে শিক্ষক সরলা রাণী সানা ২য় ও ৩য় শ্রেণি মিলে ৩ জন শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছেন। প্রধান শিক্ষক পিন্টু সরদার বলেন, ১৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ জন শিক্ষার্থী উপন্থিত আছে। মাগুরখালী ইউনিয়নের সোনারতরী স.প্রা. বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত ভদ্র বলেন, চলতি বছর ১ম থেকে ৫ম শ্রেণিতে মোট ১০ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে।
শিক্ষা অফিস বলছে, ২১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০ হাজার ৪৬১জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছেন ১১৩ জন প্রধান ও ৯৯৪ জন সহকারী শিক্ষক। তার মধ্যে এই ২৪টিতে শিক্ষার্থী সংকট। উল্লেখ্য, ২ বছর আগে সংবাদপত্রে অনেক লেখা-লেখির জেরে ‘মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চলা’ মান্দ্রা-ময়নাপুর স.প্রা. বিদ্যালয়টি কর্তৃপক্ষ অকার্যকর ঘোষণা করে। এবং শিক্ষকদের অন্যত্র বদলী করেছে।
৫০ জনেও কম শিক্ষার্থী প্রসঙ্গে ডুমুরিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার গাজী সাইফুল ইসলাম তাচ্ছিল্যের স্বরে বলেন, সারা দেশে একই অবস্থা, ছাত্র কমে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। ডুমুরিয়া উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি তথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার বলেন, এই তথ্যটি আমার জানা ছিলো না। আমি শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিবো। খুলনা জেলা শিক্ষা অফিসার অহিদুল আলম বলেন, গত ২ বছর ধরে এই বিদ্যালগুলো পার্শবর্তী বিদ্যালয়ের সাথে মিশিয়ে দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বার-বার চিঠি লিখলেও সুফল নেই। তারপরও ডুুমুরিয়ার বর্তমান অবস্থা নিয়ে আবারও মন্ত্রণালয়ে লিখবো।