নিজস্ব সংবাদদাতা,ফয়লাহাট(রামপাল) বাগেরহাট : বাগেরহাটের রামপালে খানজাহান আলী বিমান বন্দরের নির্মান কাজ বিগত ৩৬ বছরেও শেষ হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে একর পর এক সরকার বদল হলেও বিমান বন্দরের ভাগ্যে বদলায়নি। আর এরফলে দক্ষিন- পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের একটি বড় দাবী পুরন না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে রামপাল উপজেলার ফয়লাহাটে ধলদাহ-ঝালবাড়ী মৌজায় বিগত ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের শাসনামলে খানজাহান আলী বিমান বন্দর নামের একটি বিমান বন্দর নির্মান প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এ লক্ষে প্রাথমিক ভাবে ৯৭ একর ভুমি অধিগ্রহন করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া এ বিমান বন্দর নির্মান প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর দৃশ্যত আর কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি।
১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এসে নুতন করে এ বিমান বন্দর নির্মানের উদ্যেগ হাতে নেয়। এ সময় সরকার বিমান বন্দরের রানওয়ের জন্য মাটি ভরাটের কাজ শেষ করে। ওই সরকারের আমলে আর কোনো কাজ হয়নি। দীর্ঘ ৫ বছর পর বিগত ২০০১ সালে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় আসলেও এ বিমান বন্দর নির্মান প্রকল্পের কোনো কাজ হয়নি।
পরবর্তীতে ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার পুনরায় ক্ষমতায় এসে পুর্ণাঙ্গ বিমান বন্দর নির্মানের জন্য বিগত ২০১৬- ২০১৭ অর্থ বছরে গোবিন্দপুর, হোগলডাঙ্গা, দেবীপুর, সোনতুনিয়া, ধলদাহ, ঝালবাড়িসহ নয়টি মৌজায় নুতন কওে ৫২৯.০৮৫০ একর ভুমি অধিগ্রহন করে।
এদিকে বিগত ২০১৮ সালে ৮ আগস্ট দখল হস্তান্তর সম্পন্ন করে গেজেট প্রকাশ কওে বেসামারিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। অধিগ্রহনকৃত ভুমির গাছপালা, স্থাপনা ও ভুমি ক্ষতিপুরনের অর্থ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে। অধিগ্রহনকৃত ভুমির ক্ষতিপুরন প্রাপ্তির পরে ও পুর্বের কিছু জমির মালিক কৃষি চাষাবাদ ও বসবাস করছে। এদের মধ্যে এক শ্রেনির লোক গাছপালা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়।
অপরদিকে গত ২৪-১২- ২০২৪ তারিখে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী(চ.দা) মো. আমিনুল হাসিব স্বাক্ষরিত এক পত্রে পরিচালক( সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) এিএসবি সদও দপ্তর , কুর্মিটোলা ঢাকাকে এ বিমানবন্দরের স্থাপনা ও গাছপালা নিলামে বিক্রি করার জন্য নির্দেশনা দেন। নির্দেশনার পর গত দেড় বছর অতিবাহিত হলেও নিলামে তোলার কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের একটি সুত্র জানায় ভুমি অধিগ্রহনের পর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমান বন্দরের নিরাপত্তা বেষ্টনি নির্মান ও কিছু এলাকায় বালি ভরাটের কাজ শেষ করা হয়েছে। এখন একটি বহুতল গেস্ট হাউজের নির্মান কাজ করছে। দৃশ্যত এ ছাড়া আর তেমন কোনো অবকাঠমোগত উন্নয়ন হয়নি। যেদিকে দু চোখ যায় সেদিকে কেবল ফাকা মাঠ ছাড়া আর কোনো অবকাঠামো চোখে পড়েনা।
এ বিমান বন্দর নির্মান কাজেরদেখাশুনা করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন একজন প্রকৌশলী বলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ বিমান বন্দর নির্মানে কাজ করছে। ভুমি অধিগ্রহন শেষ করে নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মান কাজ করা শেষ করা হয়েছে। এখন নুতন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। আশা করি এ সরকারের শাসনামলে এ বিমান বন্দরের নির্মান শেষ হবে।