/ নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি

নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণকালে হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বলেছেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও সামাজিকভাবে মর্যাদাবান করতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করেছে। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২৩ দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জুনে বাজেট ঘোষণার পর এই কর্মসূচি পূর্ণাঙ্গভাবে সম্প্রসারণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে আরও বেশি মানুষকে এর আওতায় আনা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খালিশপুরের হাজী শরিয়ত উল্লাহ বিদ্যাপীঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক উপকারভোগী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ঢাকার বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয় এবং দেশের ১৪টি স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি চালু করা হয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত—এই তিন শ্রেণির নারীদের ৪৯ ধরনের তথ্য-উপাত্ত ‘পিএম স্কোরিং’ পদ্ধতিতে প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সারা দেশে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন উপকারভোগী এই ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছেন।

প্রধান অতিথি হুইপ রকিবুল ইসলাম বলেন, খুলনা একসময় দেশের অন্যতম শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বহু মিল-কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে। সরকার দ্রুত এসব বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে তিনি জানান। তার মতে, শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সচল হলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং খুলনা আবারও একটি আধুনিক শিল্পনগরীতে পরিণত হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের অন্যায়, মাদক বা সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। দলমত নির্বিশেষে জনগণের সহযোগিতায় একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ খুলনা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড এবং ইমাম ও পুরোহিতদের সহায়তা কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই সরকার কাজ করছে এবং সৎ ও যোগ্য মানুষদের নিয়েই নতুন পথ তৈরি করা সম্ভব।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক, কেএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী হোসেন জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক অনিন্দিতা রায়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিপুল সংখ্যক উপকারভোগী উপস্থিত ছিলেন। খুলনা সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

উল্লেখ্য, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম পর্যায়ে ৫ হাজার ২৭৫ জন উপকারভোগীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার ৪ হাজার ১৫৮ জনের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে বাকি উপকারভোগীদের মাঝেও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।