দেখার কেউ নেই
রড প্রতি টনে ১৫ থেকে ২০ হাজার, পাথর টনে ৭০০-৯০০ টাকা, সিমেন্ট প্রতি ব্যাগ ২৫ টাকা, সিলেট বালু ফুটে ১০/১৫ টাকা বেড়েছে
স্টাফ রিপোর্টার : ইরান যুদ্ধে অজুহাতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নির্মাণ খাতের প্রধান উপকরণ রড, সিমেন্ট, বালু ও পাথরের দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি টন রড ১৫ থেকে ১৮ হাজার, সিমেন্ট প্রতি ব্যাগ ১২/১৫ টাকা, বালু প্রতি ফুট ১০/১২ টাকা এবং পাথরের দাম টনে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ঠিকাদার ও নির্মাণ খাতের ব্যবসায়ীরা। অনেকে কাজ বন্ধ রেখেছেন। উন্নয়ন কাজের গতি শ্লথ হয়ে গেলে ভোগান্তির আশংকা করছেন নগরবাসী।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত মাসেও প্রতি টন কোম্পানি ভেদে ৭৬ থেকে ৮২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে কোম্পানিগুলো প্রতি টনে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত রডের দাম বাড়িয়েছে। গতকাল বুধবার খুলনার বাজারে ৯৫ হাজার টাকার নিচে কোনো রড বিক্রি হয়নি।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিভিন্ন কোম্পানির ওপিসি সিমেন্ট প্রতি ব্যাগ ৪৭৫ থেকে ৪৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গতকাল বুধবার বিভিন্ন ব্রান্ডের সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে ৪৯০ থেকে ৪৯৫ টাকায়। ৫/৮ আকারের পাথর ৪ হাজার ১০০ টাকাস্থলে এখন বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৯৫০ থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকায়। সিলেটের বালু দেশেই পাওয়া যায়। সেই বালুর দামও প্রতি বর্গফুটে ১০/১২ বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়।
খুলনার সরকারি দপ্তরগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান খুলনা ওয়াসার পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্পের ম্যানহোল স্থাপন, সাবস্টেশন ও শোধনাগার নির্মাণের কাজ চলছে। প্রায় ২ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকার প্রকল্পের বড় অংশ কংক্রিটের। খুলনা সিটি করপোরেশনের ৮৪৩ কোটি টাকার জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় বড় কয়েকটি ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। চলছে কিছু রাস্তার কাজও। এর বাইরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে সবখানে।
সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঠিকাদার নাসিম কবির বলেন, ২০২৬ সালে এসেও আমাদের ২০২২ সালের সরকারি দরে কাজ করতে হচ্ছে। গত ৪ বছরে সরকার রেট বৃদ্ধি করেনি। এর মধ্যে দাম বাড়ায় সবারই পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এতো দাম দিয়ে রড, সিমেন্ট, পাথর কিনে কারোরই জামানত থাকবে না।
কেসিসি ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল আক্তার পিন্টু বলেন, ভ্যাট-ট্যাক্স বাদ দিয়ে প্রতি কেজি রড কাজের স্থলে নেওয়া, কাটা, বাধা, মিস্ত্রী, শ্রমিক দিয়ে বিল পাই ১০৪ টাকা। এখন রডই ৯৫ টাকায় কিনতে হলে পরিবহন খরচ, কাটিং, বাইন্ডিং সব যোগ করে খরচ পড়বে ১২৫/১৩০ টাকারও বেশি। এতো টাকা লোকসান দিয়ে কেউ কাজ করতে পারবে না।
কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, বর্ষার আগে আমাদের কাজ শেষ করতে হয়। এজন্য এখন বিরামহীন কাজ চলছে। এর মধ্যে নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়ায় অনেকে কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছেন। আমরা গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছি।