/ দাকোপের প্রতিরক্ষা বাঁধের ব্লক নির্মাণ কাজ অন্য উপজেলায় শুরু করায় এলাকাবসীর মধ্যে ক্ষোভ

দাকোপের প্রতিরক্ষা বাঁধের ব্লক নির্মাণ কাজ অন্য উপজেলায় শুরু করায় এলাকাবসীর মধ্যে ক্ষোভ

মোঃ শিপন ভূঁইয়া,দাকোপ(খুলনা : পাউবো’র অধীনে চলমান ৩১নং পোল্ডারের খলিশা গ্রামে বেড়িবাঁধ প্রতিরক্ষার ব্লক নির্মাণ কাজ অন্য উপজেলায় শুরু করায় ফুসে উঠেছে গ্রামবাসী। নির্মিত হওয়া এ প্রতিরক্ষা ব্লক কোন ভাবেই খলিশা গ্রামের বাঁধে ব্যবহার করতে দেবেন না বলে সোচ্ছার হচ্ছেন গ্রামবাসী। উক্ত ব্লক নির্মাণের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য অবিলম্বে কাজের নির্দষ্ট স্থান খলিশা গ্রামে ব্লক নির্মাণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ দাকোপ উপজেলা প্রশাসনের আশুহস্ত ক্ষেপ কামনা করেছেন দাকোপ উপজেলার খলিশা গ্রামবাসী।

খুলনা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২ এর সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাযায়, জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বিভাগ-২এর আওতায় দাকোপ উপজেলার ৩১নং পোল্ডারের খলিসা গ্রামের ২৫৫ মিটার বেড়িবাঁধে প্রতিরক্ষা মুলক ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণের জন্য মেঘা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। উক্ত প্রকল্পের (প্যাকেজ নং-উজগঊচ/কযঁ-২/০৫/খড়ঃ-০১)। প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধে প্রতিরক্ষা মুলক ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজটি পেয়েছেন মের্সাস ইউনাইটেড ব্রাদার্স নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। উক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির দাকোপ উপজেলার খলিশা গ্রামে ব্লক তৈরীসহ আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই ব্লক দিয়ে প্রতিরক্ষা মূলক বাঁধ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

দাকোপের খলিশা গ্রামের স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রাকাশ না করার শতে বলেন, আমাদের খলিশা গ্রামের বেড়িবাঁধে প্রতিরক্ষা মূলক ব্লক নির্মাণ কাজটি খলিশা গ্রামের বিলে করা যেত। 

খলিশা গ্রামের বাসিন্দা ও চালনা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শুভংকর রায় বলেন, উন্নয়ন মুলক মেঘা প্রকল্পের কোন কাজে জনজবাবদিহিতা না থাকলে সেখানে নিঃসন্দেহে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনাইটেড ব্রার্দাস এর স্বত্বাধিকারী তারেক হাসানের ব্যবহৃত মুঠো ফোন এ প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি বর্তমান সময়ে পাউবো’র ব্লক নির্মাণে দুর্নীতি বা অনিয়ম করার কোন সুযোগ নেই বলে দাবী করে বলেন, খলিশা গ্রামে ব্লক তৈরীতে মিষ্টি পানির আধাঁর ও প্রয়োজনীয় জমি না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে পাশ্ববর্তী উপজেলার রানা রির্সোটের পাশে উঁচু জায়গায় এবং মিষ্টি পানির আধারের মাধ্যমে ব্লক তৈরী করতে হচ্ছে। আর পাশ্ববর্তী উপজেলার রানা রির্সোটের পাশে তৈরী হওয়া এ ব্লক খলিশা গ্রামের বেড়িবাঁধে ডাম্পিং করার জন্য নদী পথে পরিবহনে আমার অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে। আর এ ব্লক তৈরীতে সার্বক্ষণিক পাউবো ও জাইকার সংশ্লিষ্টরা তদারকি করছেন।

জাইকার পিডি মোঃ আরিফুজ্জামান এর ব্যবহৃত মুঠো ফোনে এ প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি জানান,খলিশা গ্রামে ব্লক নির্মাণের উঁচু জায়গা না থাকায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি পাশ্ববর্তী বটিয়াঘাটা উপজেলায় এ ব্লক নির্মাণ কাজ করছেন। তিনি এ ব্লক নদী পথে বার্জে পরিবহন করে খলিশা গ্রামের বাঁধ প্রতিরক্ষা কাজে ব্যবহার করবেন। প্রতিটি ব্লক নিদৃষ্ট ডিজাইন বা মানসম্মত না হলে সে ব্লক কোন ভাবেই প্রতিরক্ষা বাঁধের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।    

বিষয়টি জানাতে খুলনা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জহির মাজহার এর সাথে মুঠো ফোনে এ প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি জানান,খলিশা গ্রামে ব্লক নির্মাণের জায়গা না পাওয়ায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠনটি পাশ্ববর্তী বটিয়াঘাটা উপজেলার রানা রির্সোটের পাশে ব্লক তৈরী করছেন। সম্প্রতি এ কাজে ঢাকা থেকে আগত একটি টাক্সফোর্স টিম ব্লক নির্মাণের মালামাল পরীক্ষা নিরিক্ষার কাজও সম্পন্নও করেছেন। খলিশা গ্রামের বাঁধ প্রতিরক্ষার এ ব্লক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বাঁধের পাশে বসানো হবে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্লক নির্মাণ কাজ প্রত্যক্ষ ভাবে তদারকি করছেন।