/ মহানগরীর দৌলতপুরে তিন দিনের ভারী বর্ষণ: প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, চরম দুর্ভোগে মানুষ

মহানগরীর দৌলতপুরে তিন দিনের ভারী বর্ষণ: প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, চরম দুর্ভোগে মানুষ

হাসান চৌধুরী
মহানগরীর দৌলতপুরে চলমান টানা ৩ দিনের ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে|এলাকাবাসী জনজীবন চরম দুর্ভোগ ও বিষণ্ণতায় ভুগছে|গত শনি,রবি-সোমবার সকালে ও সন্ধ্যা থেকে গভীর রাতঅব্দি পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন পেশাজীবী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি প্রকট আকার ধারণ করেছে|

জানা যায়, কালের বিবর্তনে ও মৌসুমী বায়ুর প্রভাব আরো তীব্র আকার ধারণ করায় উপশহর দৌলতপুরে অবকাঠামো বেগতিক হয়ে পড়েছে| নিম্ন চাপের প্রভাবে বাতাসের গতি বৃদ্ধির ফলে এলাকায় বিভিন্ন গ্রাম্য কাঁচা ঘর বাড়ি বসবাসের অযোগ্য হয়েছে|নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে|দৌলতপুরসহ দিয়ানা, পাবলা, গোয়ালখালী, কাশিপুর, কবীর বটতলা, মধ্য দাঙ্গা, গায়কুর আড়ংঘাটা,নয়াবাটি এলাকায় বেশ কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে| অপরিকল্পিত নগরায়ন খাল, নালা দখল ড্রেনেজ ব্যবস্থা ত্রুটি কারণে দৌলতপুরে বৃষ্টি এলেই জলাবদ্ধতা ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়| জলাবদ্ধতায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে|গ্রামের বিভিন্ন এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন| বিশেষ করে নিম্নাঞ্চল ও এলাকাগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে|স্থানীয় এক বাসিন্দা বাহাদুর খান বলেন, প্রতিনিয়ত পানি বাড়ছে| রান্না-বাড়া চলাফেরা কিছুই ঠিকমতো করা যাচ্ছে না|অন্যদিকে, কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন| মাঠের ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা| অনেক মাছের ঘের ও পুকুর পানিতে ভেসে যাওয়ার অভিপ্রায় বলে এলাকার মৎস্যচাষিরা জানিয়েছেন|

সূত্রে জানা গেছে, আরও বৃষ্টি হলে দৌলতপুর এলাকার পরিস্থিতি আরো অবনতি ও ভয়াবহর আশঙ্কা রয়েছে|আরো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে|সোমবার দুপুর ২টা পর্যন্ত দৌলতপুর এলাকায় ভারী বর্ষণে রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়|এবারের বৃষ্টি স্বাভাবিক এর চেয়ে একটু বেশি হচ্ছে বলে এলাকার বিজ্ঞজনরা বলেন| অন্যদিকে এলাকার পাশে দু একটি বড় খাল পানিতে থৈ থৈ করছে| সরজমিনে দেখা গেছে,স্কুল কলেজ বাজার অন্যান্য অফিস পাড়ায় লোকজনের সমাগম খুব কম| মহাসড়ক ও আশপাশের বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের চলাচল কম পরিলক্ষিত হয়েছে|যশোর-খুলনা মহাসড়ক, দৌলতপুর পাবলা আমজাদ সড়ক ও বিএল কলেজ সড়কে সোমবার বিকাল থেকে প্রধান সড়কে ড্রেন থেকে উপচে পড়া পানি আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছে| এ

ই সড়ক গুলোর অধিকাংশ ড্রেনের উপরে স্লাব না থাকায় প্লাস্টিকের পলিথিন বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা ফেলে ভরাট করার প্রেক্ষিতে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উপচে রাস্তার পর উঠে প্লাবিত হয়|সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি সম্পর্কিত কর্মকর্তা ও কেসিসির ৫,৬নং ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী সালাউদ্দিন ড্রেনেজ সড়ক ও ফুটপাত সম্পর্কে বলেন যে,এগুলি অতীব জরুরী ও জনগুরুত্বপূর্ণ এগুলোই সমস্যা রয়েছে দ্রুত এগুলি সমাধানের পরিকল্পনা হাতেও নেওয়া হয়েছে|অন্যদিকে দৌলতপুর থানার বিএনপি সভাপতি মুর্শিদ কামাল জানান যে,দৌলতপুর এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে ড্রেন থাকায় এগুলি নতুন করে পরিকল্পনা করা হয়েছে তা অতিসত্বর কার্যকর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন|