পলাশ কর্মকার, কপিলমুনিঃ বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে| এক মাসের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে| পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষ সেবা চালু করা হলেও চিকিৎসকরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন|
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুলাই মাসে সেখানে পাঁচজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন| গত জুন মাসে আক্রান্ত ছিলেন মাত্র দুইজন| বর্তমানে শনাক্ত পাঁচজনের মধ্যে তিনজন হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন| অপর দুজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন|
চিকিৎসকরা জানান, ভর্তি রোগীদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে| তবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার ও ডাবের খোসায় জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবৃদ্ধির কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে| এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবা ও বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে|
উপজেলা স্বাস্থ্যও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে হঠাৎ করেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে| হাসপাতাল ও মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে| যেসব স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখার জন্য সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে|
তিনি আরও বলেন, শুধু পাইকগাছার বাসিন্দাই নন, বাইরের এলাকা থেকেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী এ উপজেলায় আসছেন| তাই সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে| বিশেষ করে রাতে অবশ্যই মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে| এখন থেকেই সচেতন না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে|
চিকিৎসকরা জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন|
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম, ফগিং এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা জরুরি| তা না হলে আগামী দিনে পাইকগাছায় ডেঙ্গুর পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে|