দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জন্ম নেওয়া জোড়ালাগা যমজ কন্যাশিশুর চিকিৎসা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে একটি দরিদ্র পরিবার। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী জন্মের তিন মাস পূর্ণ হওয়ার পর শিশু দুটিকে ঢাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নেওয়ার কথা থাকলেও অর্থাভাবে তা সম্ভব হয়নি। ফলে তাদের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করার প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার যমজ শিশু উম্মে জয়নব ও উম্মে কুলসুমের জন্মের তিন মাস পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে না পারায় শিশু দুটিকে রাজধানীতে নিতে পারেননি বাবা নাহিদ হাসান। এতে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পুরো পরিবারের।
শিশুদের বাবা নাহিদ হাসান বলেন, বাচ্চাদের নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। আজ তাদের জন্মের তিন মাস পূর্ণ হলো। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার মতো মোটা অঙ্কের অর্থ জোগাড় করতে পারিনি। নির্ধারিত সময়ের পরও ঢাকায় নিতে না পারলে তাদের সুস্থ রাখতে পারব কি না, সেই চিন্তায় আছি। এ কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
তিনি জানান, সন্তানদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিত্তবানদের দ্বারে দ্বারে সহায়তা চাইলেও প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ সময় পার হয়ে যাচ্ছে।গত ৪ মে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বিলগাথুয়া মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নাহিদ হাসান (২৬) ও তার স্ত্রী সানজিদা ইয়াসমিন মুক্তার (২২) ঘরে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় জোড়ালাগা যমজ কন্যাশিশু। পরে তাদের নাম রাখা হয় উম্মে জয়নব ও উম্মে কুলসুম।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশু দুটিকে আলাদা করার আগে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিয়মিত চিকিৎসা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। সে জন্য জন্মের তিন মাস পূর্ণ হওয়ার পর আবার বিএসএমএমইউতে নিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু চরম দারিদ্র্য ও আর্থিক সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে শিশু দুটিকে ঢাকায় নেওয়া সম্ভব হয়নি। এতে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতিও বিলম্বিত হচ্ছে। সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে অসহায় বাবা-মায়ের। পরিবারের দাবি, সরকারি ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে শিশু দুটির উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।