যশোরের অভয়নগরে বিদেশি জাতের আম চাষকরে সফলতা পেয়েছেন কৃষক আসাদুর রহমান
সুনীল কুমার দাস, নওয়াপাড়া (যশোর) : যে মাটিতে একসময় ধান, পাট আর প্রচলিত ফসলের সবুজ সমারোহ দেখা যেত, সেই মাটিতেই এখন রঙের উৎসব। গাছের ডালে ডালে ঝুলছে লাল, বেগুনি, হলুদ আর নানা বর্ণের আম। বাতাসে ভেসে আসছে কাঁচা-পাকা ফলের ঘ্রাণ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, কোনো বিদেশি ফলের বাগান নয়, যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক রঙিন ক্যানভাস।
যশোরের অভয়নগর উপজেলার ভুমুরতলা এলাকার একটি মৎস্য ঘেরের পাড়ে গড়ে উঠেছে এমনই এক ব্যতিক্রমী আমবাগান। আর এই স্বপ্নের কারিগর স্থানীয় উদ্যোক্তা আসাদুর রহমান। প্রচলিত কৃষির বাইরে গিয়ে বিদেশি জাতের আম চাষ করে তিনি তৈরি করেছেন সম্ভাবনার নতুন ঠিকানা।
প্রায় দুই শতাধিক দেশি-বিদেশি আমগাছ নিয়ে গড়ে ওঠা এই বাগান এখন এলাকার মানুষের কাছে কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে জাপানের বিখ্যাত মিয়াজাকি, ব্ল্যাক ডায়মন্ড, চায়না থ্রি, জাপানি ও বিভিন্ন রঙিন জাতের আম গাছগুলো দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করছে।
স্বপ্ন থেকে বাস্তবের পথ :
কৃষির প্রতি ভালোবাসা থেকেই ভিন্ন কিছু করার চিন্তা শুরু করেন আসাদুর রহমান। প্রচলিত চাষাবাদের বাইরে গিয়ে নতুন জাতের ফল চাষের আগ্রহ তাকে নিয়ে যায় বিদেশি আমের জগতে।
আসাদুর রহমান বলেন, “প্রথমে অনেকেই বিষয়টিকে সহজভাবে নেননি। বিদেশি জাতের আম আমাদের দেশের মাটিতে হবে কিনা, তা নিয়েও অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু পরিচর্যা, ধৈর্য আর কৃষি প্রযুক্তির সহযোগিতায় এখন ভালো ফলন পাচ্ছি। মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে বাগান দেখতে আসছেন—এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ।”
তিনি জানান, বর্তমানে তার বাগানে প্রায় ২০ ধরনের দেশি-বিদেশি আম রয়েছে। এসব আম শুধু স্বাদের দিক থেকেই নয়, রঙ ও আকৃতির কারণেও মানুষের নজর কাড়ছে।
কৃষকদের চোখে নতুন আশার আলো
স্থানীয় কৃষক রহিম মোল্লা বলেন, “আমরা এতদিন ধান, সবজি আর প্রচলিত ফসল নিয়েই ছিলাম। আসাদুর ভাইয়ের বাগান দেখে বুঝতে পারছি, কৃষিতে নতুন কিছু করার সুযোগ আছে। এখন অনেকেই বিদেশি ফলের চাষ সম্পর্কে আগ্রহী হচ্ছেন।” আরেক কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “একই বাগানে এত ধরনের রঙিন আম আগে কখনো দেখিনি। এই উদ্যোগ আমাদের মতো কৃষকদের উৎসাহ দিচ্ছে। সঠিক পরামর্শ পেলে আমরাও এ ধরনের চাষে এগিয়ে আসতে পারি।”
কৃষিতে নতুন বার্তা
উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে বিদেশি জাতের আম চাষ করলে কৃষকরা লাভবান হতে পারেন। নতুন জাতের ফল চাষ কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে। অভয়নগরের এই বাগান এখন শুধু একটি ফলের বাগান নয়, এটি কৃষিতে পরিবর্তনের এক প্রতীক। যেখানে একসময় ছিল সাধারণ সবুজের সমারোহ, সেখানে এখন ফুটে উঠেছে রঙিন সম্ভাবনার ছবি।
মেঠোপথের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এই বাগান যেন নীরবে বলে যায়—কৃষিতে নতুন চিন্তা, পরিশ্রম আর সাহসী উদ্যোগ থাকলে দেশের মাটিতেও জন্ম নিতে পারে বিদেশি স্বপ্নের ফসল।