শেখ আহমেদ তারিক, বাগেরহাটঃ নির্মাণের ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও ব্যবহার শুরু হয়নি প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাগেরহাট পৌরসভার তিনতলা আধুনিক ভবন। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবনটির বিভিন্ন কক্ষ এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ভবনেই দাপ্তরিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই ভবনে প্রতিদিন সেবা নিতে আসছেন শত শত নাগরিক। এতে তাদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আতঙ্ক।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১ কোটি ৯১ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে বাগেরহাট পৌরসভার নতুন তিনতলা ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট। এমএ জলিল নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনের মূল কাঠামো নির্মাণ করে। তবে বরাদ্দের অভাবে দরজা-জানালা ও রংয়ের কাজ শেষ না হওয়ায় ভবনটি ব্যবহার শুরু করা সম্ভব হয়নি।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ভবনটি ব্যবহার উপযোগী করতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ ব্যয় পৌরসভার নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে বহনের নির্দেশ দেয়। এরপরও ভবনটি চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় ভবনের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন কক্ষে জমেছে ময়লা-আবর্জনা।
অন্যদিকে পৌরসভার পুরোনো চারতলা ভবনটিও বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বারান্দা, ছাদ ও বিভিন্ন কক্ষের পলেস্তারা নিয়মিত খসে পড়ছে। প্রায় ছয় মাস আগে দ্বিতীয় তলায় ওঠার সিঁড়ির ওপরের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। ভবনের বিভিন্ন পিলার ও দেয়ালেও দেখা দিয়েছে ফাটল।
অকেজো কেচিগেট পার হয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই ভবনেই দায়িত্ব পালন করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই ভবনে সেবা নিতে আসছেন শত শত নাগরিক।এক পৌর কর্মচারী বলেন, পুরোনো ভবনটির বিভিন্ন জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং ফাটলও রয়েছে। সবসময় ঝুঁকির মধ্যে কাজ করতে হয়। নতুন ভবনটি দ্রুত চালু করা গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি নাগরিকদের জন্যও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হবে।
পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাজী হেমায়তে বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন অনেক মানুষ এখানে আসেন। ভবনের অবস্থা দেখে অনেক সময় ভয় লাগে। নতুন ভবন নির্মাণ করে এত বছর ফেলে না রেখে দ্রুত চালু করা হলে সাধারণ মানুষ ভালো পরিবেশে সেবা নিতে পারবেন।
বাগেরহাট পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, নতুন ভবনটি ব্যবহার উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে ভবনটি চালু করা গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারবেন এবং নাগরিকরাও উন্নত পরিবেশে সেবা পাবেন। পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট পৌরসভায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার নাগরিকের এই পৌরসভায় প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ বিভিন্ন ধরনের নাগরিকসেবা নিতে আসেন।
দীর্ঘ ১২ বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি দ্রুত সংস্কার ও চালু করে পৌরসভার কার্যক্রম সেখানে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।